Home নির্বাচন রামগঞ্জের নির্বাচনী ময়দান: ‘কোটিপতি’ ইমেজের আড়ালে ঋণের পাহাড়

রামগঞ্জের নির্বাচনী ময়দান: ‘কোটিপতি’ ইমেজের আড়ালে ঋণের পাহাড়

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অন্যতম বার্থ অপারেটর এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) একাংশের সাবেক এই চেয়ারম্যান সম্প্রতি তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা বিশ্লেষণ করলে একাধারে বিশাল সম্পদের মালিকানা এবং কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ঋণের চিত্র ফুটে ওঠে।

ব্যবসায়িক পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান: মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী। চট্টগ্রাম বন্দরে বার্থ অপারেটর হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএলডিপি (একাংশ) এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ৬৫ বছর বয়সী এই প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি।

বিশাল ব্যাংক ঋণ ও পুনঃতফসিল হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শাহাদাত হোসেন সেলিম ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে বিশাল অংকের ব্যাংক ঋণ। ‘এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে তিনি বড় অংকের ঋণ নিয়েছেন। এর মধ্যে ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ১৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা এবং নন-ফান্ডেড ঋণ ৯ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো,  ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি এই বিপুল পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন।

সম্পদের পাহাড়: নগদ টাকা থেকে বিলাসদ্রব্য হলফনামায় শাহাদাত হোসেন সেলিম তার ও তার পরিবারের বিশাল সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন। ১. অস্থাবর সম্পদ: প্রার্থীর নিজের নামে নগদ ও ব্যাংক জমা মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা রয়েছে। এছাড়া তার মালিকানায় ১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা মূল্যের দুটি দামী মোটরযান রয়েছে। ২. স্বর্ণালঙ্কার: নিজের নামে ৩১ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণের মালিকানা দেখিয়েছেন তিনি। ৩. স্থাবর সম্পদ: প্রার্থীর নিজের নামে ৪ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকার অকৃষি জমি এবং ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকার আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। হলফনামায় তার মোট স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য ৩০ কোটি ২০ লক্ষ টাকার বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।

স্ত্রীর আয় ও সম্পদের প্রভাব শাহাদাত হোসেন সেলিমের নিজের আয়ের পাশাপাশি তার স্ত্রী নীলুফা নাসরিনের আয় ও সম্পদের পরিমাণও বেশ লক্ষণীয়। প্রার্থীর স্ত্রীর ব্যবসা ও চাকরি থেকে বছরে বিপুল আয় হয়। তার স্ত্রীর নামে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৬১ লক্ষ টাকার উপরে। এছাড়া প্রার্থীর ছেলের নামেও ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

মামলা ও আইনি জটিলতা বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ফৌজদারি মামলা না থাকলেও হলফনামায় অতীতের একটি মামলার উল্লেখ রয়েছে। ২০১৫ সালে রাজধানীর রমনা থানায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে সেই মামলা থেকে তিনি বর্তমানে আইনিভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন।

ভোটারদের আকর্ষণ চট্টগ্রাম বন্দরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিমের এই বিপুল সম্পদ ও ঋণের হিসাব রামগঞ্জের ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে বিশাল অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং অন্যদিকে পাহাড়সম ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে রামগঞ্জের নির্বাচনী সমীকরণ এখন বেশ জটিল ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিমের হলফনামা অনুযায়ী, তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ যেমন বিশাল, তেমনি তার ব্যবসায়িক ঋণের পরিমাণও প্রায় ২৪ কোটি টাকা, যা তিনি সম্প্রতি পুনঃতফসিল করেছেন