Home First Lead ফের দামী হচ্ছে সিমেন্ট: বিশ্ববাজারে ক্লিংকারের দর বাড়ল ৯ শতাংশ

ফের দামী হচ্ছে সিমেন্ট: বিশ্ববাজারে ক্লিংকারের দর বাড়ল ৯ শতাংশ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বিশ্ববাজারে সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের আবাসন ও নির্মাণ শিল্পে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্লিংকারের দাম টনপ্রতি ৯ শতাংশ বা প্রায় ৪ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি টন ক্লিংকারের গড় আমদানিমূল্য ৪৬ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫,৫০০ টাকা) গিয়ে ঠেকেছে।
কাঁচামালের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাজারে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ক্লিংকার আমদানিকারক দেশ। বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়ার ফলে প্রতি টন ক্লিংকার আমদানিতে বাংলাদেশের খরচ গড়ে ৪৩৭ টাকা বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগরের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাড়তি জাহাজ ভাড়া (Freight Cost)। বাল্ক পণ্য হওয়ায় ক্লিংকারের পরিবহন খরচ সরাসরি সিমেন্টের উৎপাদন খরচকে উসকে দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারের শীর্ষ দেশগুলোর পরিস্থিতি
২০২৬ সালের শুরুতেই ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ ক্লিংকার রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তাদের বার্ষিক রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২.৫ মিলিয়ন টন। বাংলাদেশের আমদানির একটি বড় অংশই এখন ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে। অন্যদিকে, মিশর ১২.৪ মিলিয়ন টন রপ্তানি করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
শীর্ষ উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে:
ভিয়েতনাম: শুল্ক ১০% থেকে কমিয়ে ৫% করলেও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ায় সেখানে রপ্তানিমূল্য ৩৫-৩৮ ডলারের (FOB) আশেপাশে স্থিতিশীল রয়েছে।
ভারত: বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পের কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা বাংলাদেশে রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে, ফলে ভারত থেকে আমদানিকৃত ক্লিংকারের দামও চড়া।
চীন ও জাপান: চীন পুনরায় রপ্তানি বাজারে শক্তিশালী হয়ে ফিরছে। এছাড়া থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও শীর্ষ ১০-এর তালিকায় অবস্থান করছে।
খুচরা বাজারে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
ক্লিংকারের এই চড়া মূল্যের কারণে বাংলাদেশে  সিমেন্টের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বস্তা সিমেন্টে ১০ থেকে ২০ টাকা দাম বাড়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল নাগাদ বৈশ্বিক চাহিদা আরও বাড়তে পারে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে ক্লিংকারের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম; বরং দাম আরও বাড়তে পারে অথবা বর্তমানের এই উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল থাকতে পারে। ক্রমবর্ধমান এই ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হতে পারে দেশের আবাসন খাত ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে।