রাস্তার একপাশে সারি সারি পলিথিনের ছাউনি দেওয়া দোকান, যেখানে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে এবং পথচারীদের চলাচলে প্রচণ্ড বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা নাসিরাবাদ। এখানে নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (বয়েজ স্কুল) ঠিক বিপরীত পাশে এবং সানমার ওশান সিটির অদূরে প্রধান সড়ক সিডিএ এভেনিউ, ড্রেনের ওপর গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ খাবারের দোকান। জনাকীর্ণ এই এলাকায় যত্রতত্র দোকানপাটের কারণে একদিকে যেমন পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠছে, অন্যদিকে ধুলোবালি ও ড্রেনের দুর্গন্ধের মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে অতি নিম্নমানের অস্বাস্থ্যকর খাবার।
সরেজমিনে চিত্র: ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার একটি বিশাল অংশ দখল করে সারি সারি খাবারের দোকান বসানো হয়েছে। কোনো কোনো দোকানের চুলার পাশেই রয়েছে নর্দমা। খোলা আকাশের নিচে কোনো প্রকার ঢাকনা ছাড়াই সাজিয়ে রাখা হয়েছে সিঙ্গাড়া, সমুচা, বিরিয়ানি এবং বিভিন্ন ভাজাভুজি। রাস্তার ধুলোবালি সরাসরি গিয়ে পড়ছে এসব খাবারে। মূলত পথচারি, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষই এই খাবারের প্রধান ক্রেতা। যা খেয়ে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
পথচারীদের ভোগান্তি: এমনিতেই এই সড়কটিতে যানবাহনের চাপ বেশি থাকে, তার ওপর রাস্তার ওপর দোকান গড়ে ওঠায় পথচারীদের হাঁটাচলার জায়গা নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে মানুষকে মূল সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফুটপাত- রাস্তা এখন দোকানের দখলে। আমাদের হাঁটার কোনো জায়গা নেই। সিটি কর্পোরেশন এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছে।”
নেপথ্যে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব: অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব দোকান সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি রাজনৈতিক দলের যুব সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে কতিপয় সন্ত্রাসী নিয়মিতভাবে এই দোকানগুলো থেকে চাঁদা আদায় করে। এই ‘মাসোহারা’ বা চাঁদার বিনিময়েই নির্বিঘ্নে চলছে রাস্তার ওপর এই বিশাল খাবারের মেলা।
কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততা: সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় এই কর্মযজ্ঞ চললেও তারা রহস্যজনকভাবে নীরব। প্রশাসনের এই উদাসীনতাকে স্থানীয়রা সরাসরি ‘কর্তব্য অবহেলা’ হিসেবে দেখছেন।
জনস্বার্থ রক্ষায় দ্রুত এই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে রাস্তাটি পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকানগুলো বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।