Home Third Lead গাজা অবরোধ তুলে নিতে ইসরায়েলকে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ দেশের কড়া আহ্বান

গাজা অবরোধ তুলে নিতে ইসরায়েলকে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ দেশের কড়া আহ্বান

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজায় মানবিক সহায়তার ওপর চলমান অবরোধ অবিলম্বে তুলে নিতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের চার মিত্র রাষ্ট্র। তারা সতর্ক করেছে, এই অবরোধ চালিয়ে গেলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি অনাহারের ঝুঁকিতে পড়বেন এবং শান্তিপ্রচেষ্টাও ব্যাহত হবে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘে এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, গ্রিস ও স্লোভেনিয়া জানায়, তৃতীয় মাসে গড়িয়ে পড়া ইসরায়েলি বাধা ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং এটি জাতিসংঘ ঘোষিত দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিকে আরও গভীরতর করতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ত্রাণ আটকে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুসহ অসংখ্য ফিলিস্তিনি অনাহারে পড়ছেন। দ্রুত অবরোধ না তোলা হলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে—এমন মৃত্যু যা সহজেই ঠেকানো যেত।”

এ পাঁচ দেশ গাজা পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করে। তারা সতর্ক করে দিয়েছে, ইসরায়েল যদি গাজার কিছু অংশ দখল করে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এতে অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “গাজায় ভূমি সংযুক্তকরণের যে কোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংকুচিত করা যাবে না, না কোনো জনসংখ্যাগত পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া যাবে।”

সম্প্রতি ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজায় সামরিক অভিযানের সম্প্রসারণ অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “এই দুটি পদক্ষেপ (অবরোধ ও সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ) শান্তি ও নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে কোনোভাবেই সেবা দেয় না এবং জিম্মিদের মুক্তির পথও সহজ করে না।”

ইসরায়েলি-আমেরিকান নাগরিক এদান আলেকজান্ডারের মুক্তিকে স্বাগত জানালেও বাকি জিম্মিদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে পাঁচ দেশ। তারা বলেছে, “এই ভোগান্তির অবসান হতে হবে। হামাসের গাজায় কোনো ভবিষ্যৎ থাকা উচিত নয়—না তারা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হিসেবে থাকুক।”

এছাড়া গাজায় একটি নতুন মানবিক সহায়তা বিতরণ কাঠামো গঠনের প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা, যা জাতিসংঘের মতে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, “মানবিক সহায়তাকে কখনও রাজনৈতিক অস্ত্র বা সামরিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সহায়তা বিতরণের যেকোনো কাঠামো হতে হবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত।”

ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আলোকে গাজায় দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাবিহীন সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ দেশ বলে, “গাজা কোনো ব্যতিক্রম নয়।”

বিবৃতিতে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানানো হয়, বিশেষ করে প্যালেস্টিনিয়ান রেড ক্রিসেন্ট কর্মী নিহত এবং ১৯ মার্চ জাতিসংঘ কার্যালয়ে বিমান হামলার ঘটনায়। তারা বলেছে, “সংঘাত শুরুর পর গাজায় অন্তত ৪১৮ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন—এটি একটিও বেশি।”

এই ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

শেষে যৌথ বিবৃতিতে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির, সব জিম্মির মুক্তি ও দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যে নতুন প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানানো হয়। আগামী মাসে নিউইয়র্কে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে শেষ কথা ছিল, “এটাই একমাত্র পথ, যা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।”