ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৯
স্মৃতি হাসান
বাতিঘরের ভেতরের নীল আলো এখন লাল রঙে বদলে গেছে। চারদিকের দেয়ালে থাকা পুরনো মনিটরগুলো সাইরেনের মতো শব্দ করে জানান দিচ্ছে— ‘সেলফ-ডিস্ট্রাক্ট সিকোয়েন্স অ্যাক্টিভেটেড’। আরিয়ানের আঙুল সেই আত্মঘাতী সুইচের ওপর স্থির। তার চোখের সামনে নিজের বড় ভাই আরিফের চেহারাটা বদলে যাচ্ছে। লোভে উন্মত্ত আরিফ এখন আর তার ভাই নয়, বরং এক ভয়ংকর দেশদ্রোহী।
“আরিয়ান, পাগলামি করো না!” আরিফ চিৎকার করে উঠল, তার হাতে থাকা সেই মাইক্রোফিল্মের সিলিন্ডারটি সে শক্ত করে ধরে আছে। “এটা ধ্বংস করলে তুমি শুধু আমাকে নয়, বাবার শেষ স্মৃতিটুকুও মুছে ফেলবে। এই কোডটা ইন্টারনেটে ছেড়ে দিলে আমরা বিলিয়ন ডলারের মালিক হতে পারি!”
আরিয়ান শান্ত গলায় বলল, “বাবা এই স্মৃতি রক্ষার জন্য মরেননি ভাইয়া, তিনি চেয়েছিলেন এই অভিশাপ যেন কোনোদিন মানুষের হাতে না পড়ে। ‘প্রজেক্ট ফিনিক্স’ কোনো সম্পদ নয়, এটি একটি ডিজিটাল মারণাস্ত্র। এটা বেঁচে থাকলে শান্তি থাকবে না।” ঠিক তখনই বাতিঘরের ভিত্তিপ্রস্তর কেঁপে উঠল। নিচতলা থেকে পানির গর্জনের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে—সমুদ্রের লোনা পানি ইতিমধ্যেই কাঠামোর ভেতরে ঢুকতে শুরু করেছে।
সাগর তার জ্যামার ব্যবহার করে আরিফের সশস্ত্র গার্ডদের বিভ্রান্ত করে ফেলেছে। সে আর বকিব দ্রুত মেঝের এক কোণে থাকা একটি গোপন টানেলের মুখ খুলে ফেলল। সাগর চিৎকার করে বলল, “আরিয়ান! জলদি আয়! হাতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় আছে। পুরো বাতিঘরটা ধসে পড়বে!”
আরিফ তখনো মাইক্রোফিল্মটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে। সে আরিয়ানের দিকে পিস্তল তাক করল, কিন্তু তার হাত কাঁপছিল। রক্তের টান কি তবে শেষ মুহূর্তে তাকে বাধা দিচ্ছে? আরিয়ান দেখল আরিফের পেছনে থাকা একটি বিশালাকার লোহার গিয়ার আলগা হয়ে তার ওপর পড়ার উপক্রম হয়েছে।
“ভাইয়া, সরে যাও!” আরিয়ান চিৎকার করে আরিফকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল, কিন্তু সেই সুযোগে মাইক্রোফিল্মের সিলিন্ডারটি আরিফের হাত থেকে ছিটকে সেই জ্বলন্ত গর্তের ভেতরে পড়ে গেল।
আরিফ হাহাকার করে উঠল, “না! সব শেষ হয়ে গেল!” সে আগুনের লেলিহান শিখার দিকে ঝাঁপ দিতে চাইল, কিন্তু আরিয়ান তাকে শক্ত করে জাপটে ধরল। “ভাইয়া, অনেক হয়েছে। এবার চলো!”
বাতিঘরের দেয়ালগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। আরিয়ান, আরিফ, সাগর আর বকিব সেই গোপন টানেল দিয়ে নিচের দিকে ঝাঁপ দিল, ঠিক যে মুহূর্তে ওপরের বাতিঘরটি এক বিশাল বিস্ফোরণে চুরমার হয়ে সাগরের বুকে তলিয়ে গেল।
পশুর নদীর উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে তারা যখন একটি ভাসমান কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরল, তখন ভোরের সূর্য দিগন্তে উঁকি দিচ্ছে। ‘প্রজেক্ট ফিনিক্স’ চিরতরে শান্ত হয়েছে নীল জলরাশির অতলে। কিন্তু আরিয়ানের পকেটে থাকা সেই নীল ডায়েরিটি তখনো অক্ষত। সে জানত, কাহিনী এখানে শেষ নয়। ডায়েরির ভেতরের সেই অদৃশ্য কোডগুলো এখনো তার মস্তিষ্কে গেঁথে আছে।
পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে ও আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন। মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন।
দশম পর্বে (শেষ পর্ব) কি আরিয়ান তার ভাইকে আইনের হাতে তুলে দেবে, নাকি তারা নতুন কোনো পরিচয় নিয়ে আত্মগোপন করবে? আপনার মতামত জানান।










