ধারাবাহিক উপন্যাস:প্রথম পর্ব
স্মৃতি হাসান
পুরানো ঢাকার সূত্রাপুরের এক সরু গলির শেষ প্রান্তে সেই পরিত্যক্ত গুদামটি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় অর্ধশতক ধরে। ধুলোর আস্তরণ আর মাকড়সার জালে ঢাকা এই ঘরটিতে পা রাখলে মনে হয় সময় থমকে দাঁড়িয়েছে। বাইরে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ আর ভেতরে কেবল একটা পুরনো ঘড়ির টিকটিক আওয়াজ। আরিয়ান, পেশায় একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, এখানে এসেছিল মূলত ব্রিটিশ আমলের কিছু পুরনো জাহাজ চলাচলের নথিপত্র খুঁজতে। কিন্তু নোনা ধরা দেয়ালের এক কোণে, মেহগনি কাঠের একটি ভাঙা আলমারির নিচে সে খুঁজে পেল এক বিচিত্র বস্তু।
চামড়ায় বাঁধানো একটি নীল রঙের ডায়েরি। ডায়েরিটি হাতে নিতেই আরিয়ানের আঙুলে এক অদ্ভুত শিহরন খেলে গেল। ওপরে কোনো নাম বা শিরোনাম নেই, কেবল মাঝখানে পিতলের পাতে খোদাই করা একটি সোনালি ল্যাঙ্গর।
ডায়েরির প্রথম পাতাটা উল্টাতেই এক টুকরো সাদা-কালো ছবি নিচে খসে পড়ল। ১৯৪৮ সালের ছবি। করাচি বন্দরের উত্তাল ঢেউয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক সুটেড-বুটেড ব্যক্তি, যার চোখেমুখে এক রহস্যময় কাঠিন্য। ছবির পেছনে কাঁপাকাঁপা হাতে লেখা— “সত্য কখনো মরে না, শুধু সময়ের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে।”
ডায়েরির ভেতরের পাতাগুলো হলদেটে হয়ে গেছে, সেখানে কিছু সাংকেতিক চিহ্ন আর ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ছাড়া তেমন কিছুই নেই। আরিয়ান যখন ডায়েরিটি ব্যাগে ভরছে, ঠিক তখনই গুদামের বাইরে একটি কালো এসইউভি এসে থামল। ভারী বুটের আওয়াজ আর কর্কশ কণ্ঠে কারো নির্দেশ দেওয়ার শব্দ শুনে আরিয়ানের রক্ত হিম হয়ে এল। “সব কটা গলি সিল করে দাও! ও যেন বের হতে না পারে।”
আরিয়ান বুঝতে পারল, সে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এমন এক গোলকধাঁধায় ঢুকে পড়েছে, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ তার জানা নেই। গুদামের ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখল, বৃষ্টির ধারার মধ্যেও তিনটি কালো ছায়া দ্রুত এগিয়ে আসছে। তার প্রতিটি পদক্ষেপ এখন জীবন-মরণ প্রশ্নের মুখোমুখি।
(চলবে…)
পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে ও আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন।









