আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবং বিভিন্ন দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ও ইরানের ওপর মার্কিন চাপ এবং গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে বিরোধের জেরে কানাডার মতো দেশগুলো এখন তাদের জ্বালানি রপ্তানির জন্য এশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই মারমুখী অবস্থান এশিয়ার দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে।
কানাডার নতুন গন্তব্য এশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে এবং ঝুঁকি এড়াতে কানাডা এখন তাদের তেল ও গ্যাস শিল্পের জন্য এশিয়াকে প্রধান বাজার হিসেবে বিবেচনা করছে। এশিয়া-প্যাসিফিক ফাউন্ডেশন অব কানাডার আঞ্চলিক পরিচালক ব্যারেট বিংলি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ ‘অনির্ভরযোগ্য’ গ্রাহক হয়ে ওঠার আশঙ্কায় কানাডা তাদের গ্রাহক তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে চায়।
২০২৪ সালে ট্রান্স মাউন্টেন পাইপলাইন সম্প্রসারণের পর কানাডা এখন এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভারী অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে সক্ষম, যা আগে মূলত ভেনেজুয়েলা থেকে আসত।
ট্রাম্পের নীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে:
ভেনেজুয়েলা ও ইরান: ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যু: ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা এবং এর জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের হুমকি যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ককে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
কানাডাকে হুমকি: কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার মতো আক্রমণাত্মক মন্তব্যে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে ফাটল ধরেছে।
এশিয়ার সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক যুদ্ধ বিনিয়োগকারীদের এই দুই অঞ্চল থেকে সরিয়ে এশিয়ার দিকে ফেরাতে পারে। চীন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো জ্বালানি-নির্ভর দেশগুলো এখন তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একক উৎসের বদলে বিকল্প পথ খুঁজছে।
অলিভার ওয়াইম্যানের অংশীদার বেন সিমফেনডোরফার মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এশীয় দেশগুলোকে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমা দেশগুলোর পারস্পরিক বিরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান বিশ্ব বাণিজ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে, যার কেন্দ্রে উঠে আসছে এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল।
এই ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এবং ব্যবসায়িক সংবাদ সবার আগে পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন: businesstoday24.com