Home আন্তর্জাতিক গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের আকস্মিক ইউ-টার্ন

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের আকস্মিক ইউ-টার্ন

আন্তর্জতিক ডেস্ক: ২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ইউ-টার্নে তা নতুন মোড় নিয়েছে। গ্রিনল্যান্ড দখলের লক্ষ্যে ইউরোপের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরে আসলেও, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারী এবং বিশ্ব নেতাদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
হুমকি ও অর্থনৈতিক চাপ: জানুয়ারির শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার প্রভাব রুখতে গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ১০% থেকে ২৫% পর্যন্ত আমদান শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এর ফলে বিশ্ব বাজারে বড় ধরনের ধস নামে এবং ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্যিক সম্পর্কে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন ও রহস্যময় ‘চুক্তি’: ২১ জানুয়ারি ডাভোসে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প তার সুর নরম করেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাথে বৈঠকের পর তিনি জানান:
সামরিক পদক্ষেপ নয়: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনো প্রকার সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে না।
শুল্ক স্থগিত: আপাতত ইউরোপের ওপর প্রস্তাবিত বাড়তি শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে না।
নতুন ফ্রেমওয়ার্ক: ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে একটি গোপন ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ বা রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পের এই পিছুটানকে অনেকে কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে পরিস্থিতির স্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে:
১. সার্বভৌমত্ব বনাম নিয়ন্ত্রণ: ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার বারবার বলছে, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।”
২. সামরিক স্বার্থ: ধারণা করা হচ্ছে, সরাসরি দখল না করে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মিজাইল ডিফেন্স সিস্টেম এবং খনিজ উত্তোলনের বিশেষ অধিকার নিয়ে দরকষাকষি চলছে।
৩. বাজার পরিস্থিতি: শুল্ক স্থগিতের ঘোষণায় শেয়ার বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিয়ে বিশ্লেষকরা শঙ্কিত।
ট্রাম্পের এই অবস্থানে পরিবর্তন কি ইউরোপের সাথে সমঝোতা নাকি বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস, তা এখনো অস্পষ্ট। ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি বৈঠকে এই বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।