Home Third Lead ভোট দর্পন ২০২৬: ভোট ও ভাতের লড়াইয়ে চট্টগ্রাম-১৩

ভোট দর্পন ২০২৬: ভোট ও ভাতের লড়াইয়ে চট্টগ্রাম-১৩

 স্বপ্ন এবার ‘নিজের ভোট নিজে দেওয়ার’

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বহু বছর ধরে সাধারণ ভোটারের অংশগ্রহণ ছিল কেবল কাগজে-কলমে। দিনের আলো ফোটার আগেই ব্যালট বাক্স পূরণ আর কেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি এই জনপদের মানুষের মনে জন্ম দিয়েছিল গভীর অবিশ্বাস। তবে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং আগামীর নির্বাচনের হাতছানিতে আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর গ্রামগঞ্জে আবারও ভোটের উত্তাপ ফিরছে। তৃণমূল মানুষের এখন একটাই চাওয়া—একটি সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক ভোট।
চায়ের আড্ডায় ভোটাধিকারের দাবি
আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর বিভিন্ন বাজার ও চায়ের দোকানে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু নির্বাচন। শিলাইগড়ার এক বৃদ্ধ দোকানি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা শেষ কবে নিজের হাতে ভোট দিয়েছি তা মনে নেই। রাতেই সব হয়ে যেত। এবার যদি সঠিকভাবে ভোট হয়, তবেই কেন্দ্রে যাব।” শঙ্খ নদীর তীরের এক জেলের কণ্ঠেও একই সুর। তিনি বলেন, “উন্নয়ন তো অনেক দেখি, কিন্তু কাকে প্রতিনিধি চাই তা আমরা নিজেরা ঠিক করতে চাই। ভোট ঠিকমতো হলে এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানের পথ খুলবে।”
তরুণ প্রজন্মের ভিন্ন চিন্তা
ভোটাধিকার রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের প্রত্যাশা এবার অনেক বেশি। তাদের দাবি, নির্বাচিত প্রতিনিধিকে কেবল নির্বাচনের দিন নয়, বরং সারা বছর দৃশ্যমান থাকতে হবে। বটতলীর এক কলেজ শিক্ষার্থীর মতে, বড় বড় প্রতিশ্রুতি নয়, এবার তারা মাঠে কাজ করা মানুষ দেখতে চান। তরুণদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে:
  • দক্ষ শিল্পাঞ্চল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
  • শিল্প বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ রক্ষা।
  • নদী ও সাগরের ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন।
  • কৃষক ও মেহনতি মানুষের সংকট
আনোয়ারার গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের প্রধান উদ্বেগ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং চাষাবাদে ক্রমবর্ধমান খরচ। সরেঙ্গার কৃষক লোকমান স্পষ্টভাবেই বললেন, “আমরা বড় বড় চাকরি চাই না, শুধু চাই ফসলের সঠিক দাম। একজন যোগ্য এমপি-ই পারেন সরকারের নজর এদিকে ঘুরাতে।” কৃষকদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা দুয়ারে দুয়ারে আসলেও জেতার পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
স্থবির উন্নয়ন ও জনভোগান্তি
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। বিশেষ করে সড়ক মেরামত,  হাটবাজার উন্নয়ন, সরকারি বিভিন্ন অফিসে জনভোগান্তি  চরমে। এলাকাবাসীর দাবি, যিনি নতুন জনপ্রতিনিধি হবেন, তার কাজের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকতে হবে প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের মানুষের দাবি মূলত দুটি সমান্তরাল রেখায় চলছে। প্রথমত, একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রত্যেকে নিজের ভোটটি নিজ হাতে দিতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, এমন এক জননেতা খুঁজে নেওয়া, যিনি ড্রয়িংরুমে বসে নয় বরং সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় এসে বাস্তব সমস্যা সমাধান করবেন।
নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা বাড়লেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা।