Home চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম-১৩: ১১৮ কেন্দ্রের ৫০টিই ঝুঁকিপূর্ণ

চট্টগ্রাম-১৩: ১১৮ কেন্দ্রের ৫০টিই ঝুঁকিপূর্ণ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে নির্বাচনী উত্তাপের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। এই আসনের মোট ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ অর্থাৎ ৫০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার ২৮টি এবং কর্ণফুলী উপজেলার ২২টি কেন্দ্র রয়েছে।
কেন এই ঝুঁকি?
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল আলমের মতে, কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, বরং ভৌগোলিক অবস্থান ও অতীত ইতিহাসও এই তালিকায় প্রভাব ফেলেছে। কেন্দ্রগুলো নির্বাচনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করার পেছনে কাজ করেছে মূলত তিনটি কারণ:
দুর্গম যাতায়াত: উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা।
সহিংসতার ইতিহাস: গত নির্বাচনে ব্যালট বাক্স পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নেতিবাচক রেকর্ড।
রাজনৈতিক প্রভাব: হেভিওয়েট প্রার্থীদের একক আধিপত্য ও সংঘাতের আশঙ্কা।

স্পটলাইট: যে কেন্দ্রগুলো বিশেষ নজরে
প্রশাসনের তালিকায় থাকা ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ কিছু কেন্দ্র এবং তাদের বর্তমান চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
কেন্দ্রের নাম
ঝুঁকির মূল কারণ
ভোটার সংখ্যা
দক্ষিণ গহিরা স. প্রা. বিদ্যালয়
সাগর উপকূলীয় দুর্গম অবস্থান, যাতায়াতে বেড়িবাঁধের বাধা।
৫,১৭০
দক্ষিণ জুঁইদন্ডী স. প্রা. বিদ্যালয়
গত নির্বাচনে আগুন ও ব্যালট বাক্স পোড়ানোর ইতিহাস।
৩,৭৭৬
বশিরুজ্জামান স্মৃতি কেন্দ্র
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর নিজ এলাকা হওয়ায় একক আধিপত্যের আশঙ্কা।
৪,৩৪২
চাতরী ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, শিকলবাহা ও বটতলীর বেশ কিছু কেন্দ্রকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের ‘নিচ্ছিদ্র’ নিরাপত্তা ছক
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে এবার প্রযুক্তির সাথে মাঠ পর্যায়ের কড়াকড়ি জোরদার করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত নজরদারি: অনেক কেন্দ্রে ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মাঠ পর্যায়ের ফোর্স: প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
বিশেষ টহল: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব এবং উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্টগার্ডের সার্বক্ষণিক টহল নিশ্চিত করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা: ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার তাহমিনা আক্তার দৃঢ়তার সাথে জানান, “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।”