বিনোদন ডেস্ক: তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চলের জমিজমা, ঠান্ডা আবহাওয়া আর কঠোর পরিবেশে মানুষের জীবনযাপন সহজ নয়। সেখানে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর পাত্রের যোগ্যতা যাচাই করার জন্য চলে আসছে এক অদ্ভুত রীতি, যাকে বলা হয় “চুলকানি পরীক্ষা”।
কীভাবে হয় পরীক্ষা?
বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার আগেই পাত্রকে একটি ছোট কাঠি হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে স্থানীয় পরিবারের কাছে থাকা একটি কুকুরকে চুলকাতে হয়। এর মধ্যে বিশেষ কিছু নিদিষ্ট নিয়ম থাকে কুকুরের বুকে, গলায় বা পিঠে চুলকানো হয় যেন সে সম্পূর্ণ আরামে থাকে।
কুকুর যদি চুলকানি পেয়ে হাসিমুখে আনন্দ করে, ঠোঁট চেপে বসলেও শান্ত থাকে, তখন পাত্রকে পাত্রীর পরিবারের সদস্যরা ‘যোগ্য’ ঘোষণা করেন। এর মানে, সে ধৈর্যশীল, কোমল ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যার সাথে একসঙ্গে সুখে বসবাস করা সম্ভব।
তবে যদি কুকুর বিরক্ত হয়ে গর্জে ওঠে, চুলকানি থেকে পালানোর চেষ্টা করে বা এমনকি হামলা করে, তবে সেটিকে খারাপ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এর অর্থ পাত্রের মনোভাব যথেষ্ট মোলায়েম নয়, বা সে বিয়ের ভার সহজে নিতে পারবে না।
পরীক্ষার পেছনের ভাবনা ও সাংস্কৃতিক অর্থ
এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝানো হয় পাত্রের মন, ধৈর্য, ও চরিত্র কেমন, সেটা তার ও চারপাশের সম্পর্ককে কতটা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে। পাহাড়ি সমাজে যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়, শান্ত ও সহিষ্ণু মনোভাব অপরিহার্য।
এক কুকুরের স্বভাব ও আচরণের প্রতি এই ধরনের বিশ্বাসের শিকড় গভীরে এই প্রাণী মানুষের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী, যার অনুভূতি থেকে পাত্রের প্রকৃত স্বভাব বোঝা যায় বলে মনে করা হয়।
এই রীতি কতটা প্রচলিত?
প্রথমে মনে হতে পারে এটা মাত্র গ্রামের একটা পুরনো বিশ্বাস, কিন্তু তিব্বতের অনেক উপজাতি এখনও এই রীতি মেনে চলে। তারা বিশ্বাস করে, বিয়ের আগে পাত্র ও পরিবারের মধ্যে বিশ্বাস ও মিলনহীনতা থাকলে পরবর্তীতে সংসার টিকবে না।
বিয়ের এই ‘চুলকানি পরীক্ষা’ মূলত সাদামাটা হলেও এর মধ্যে থাকে গভীর অর্থ সম্পর্কের জন্য ধৈর্য, কোমলতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব।
অনন্য ও বিশ্বজনীন শিক্ষা
বিশ্বের নানা সংস্কৃতিতে বিয়ের আগে পাত্রের মানসিক ও সামাজিক গুণাবলী যাচাই করার নানা রীতি থাকলেও, তিব্বতের এই ‘চুলকানি পরীক্ষা’ প্রাণীর সাহায্যে চরিত্র বিশ্লেষণের দিক থেকে অনন্য। এটি শেখায়, সম্পর্ক গড়ে ওঠে শুধু কথার মাধ্যমে নয়, প্রকৃত মন ও আচরণের মধ্য দিয়ে।










