রোববার রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডা: শফিকুর রহমান। |সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের তরুণ সমাজ তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে দিয়েছে। তারা কোনো পুরোনো বা পচা রাজনীতির বন্দোবস্ত আর চায় না, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং দখলদারদের ‘লাল কার্ড’ দেখাবে।
রোববার রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
যুবকদের হাতেই দেশের দায়িত্ব
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে দিতে চাই। ২৪-এর যুবকেরা বেকার ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছিল ন্যায্য অধিকার ও কর্মসংস্থান। বেকার ভাতা দেওয়া যুব সমাজকে অপমান করার শামিল।” তিনি আরও যোগ করেন, আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ এবং হাদীদের রক্তের ঋণে এই জাতি আবদ্ধ। তাদের আকাঙ্ক্ষার যোগ্য ও দীপ্ত বাংলাদেশ গড়াই হবে আগামীর প্রধান লক্ষ্য।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
বিগত সরকারের পতনের পর একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আচরণের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “যারা সাড়ে ১৫ বছর মজলুম ছিলেন, তাদের একটি অংশ রাতারাতি জালেমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ৬ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত তাদের চাঁদাবাজি ও দখলদারিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ৫ আগস্টের রক্তের সাথে যারা বেইমানি করবে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।
নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী জনসভায় ডা: শফিকুর রহমান বেশ কিছু সংস্কার ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন:
স্বচ্ছতা: নির্বাচিত এমপিদের প্রতি বছর পরিবারের সদস্যসহ নিজেদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে পেশ করতে হবে।
আইনের শাসন: অপরাধী যেই হোক—রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না।
অর্থ পাচার রোধ: পাচার হওয়া জনগণের টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
নারী নিরাপত্তা: মা-বোনদের ইজ্জত ও নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হবে।
নাহিদ ইসলামকে নিয়ে প্রত্যাশা
ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম সম্পর্কে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, “ইনসাফের বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায় অর্জিত হলে নাহিদ ইসলামকে আপনারা ইনশাআল্লাহ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবেন। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করব।”
বক্তব্যের শেষে তিনি একটি জুলুম ও আধিপত্যবাদমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ৫টি বছরই যথেষ্ট।