চাচাকে বাবা সাজিয়ে ক্যাডার হওয়া সেই কর্মকর্তা কারাগারে
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: মুক্তিযোদ্ধা কোটা পাওয়ার লোভে জন্মদাতা পিতাকে বাদ দিয়ে আপন চাচাকে ‘বাবা’ সাজানোর অভিযোগে অবশেষে শ্রীঘরে গেলেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. কামাল হোসেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের এই আদেশ শোনার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই বিচারকের উদ্দেশে উদ্ধতভাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি।”
মামলার পেছনের ঘটনা: জালিয়াতির জাল
দুদকের তদন্ত ও মামলার বিবরণী থেকে পাওয়া চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
বিসিএস ও কোটা জালিয়াতি: মো. কামাল হোসেন ৩৫তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা পেতে নিজের বাবা আবুল কাশেম ও মা হাবীয়া খাতুনের বদলে মুক্তিযোদ্ধা চাচা আহসান হাবীব ও চাচি সানোয়ারা খাতুনকে বাবা-মা হিসেবে নথিপত্রে ব্যবহার করেন।
প্রাথমিক নথিতে আসল পরিচয়: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার নথিতে তার আসল বাবার নামই ছিল। তবে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি পরিকল্পিতভাবে চাচার নাম ব্যবহার শুরু করেন।
শর্ত ভঙ্গ ও অবাধ্যতা: ইতিপূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও ডিএনএ পরীক্ষা এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতার শর্ত দেওয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু চারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি ডিএনএ পরীক্ষা দিতে অস্বীকার করেন।
দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, জামিনের প্রধান শর্ত ছিল ডিএনএ পরীক্ষা। আসামি সেই শর্ত দুইবার ভঙ্গ করেছেন এবং তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন। শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার অস্থায়ী জামিন বাতিল করে দেন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তর্কের চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে নিবৃত্ত করে জেলহাজতে নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।