বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও পেট্রোল পাম্প মালিকদের কারসাজি বন্ধে সোচ্চার হয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ জ্বালানি তেলের সরবরাহ, মজুদ ও বিতরণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ও বিপিসির তথ্যমতে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক পেট্রোল পাম্পে ‘ডিজেল-অকটেন নাই’ লিখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ফলে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে গাড়িচালক ও মালিকদের সারা দিন নষ্ট হচ্ছে, এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে এসেও মানুষ তেল পাচ্ছে না।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী এবং নগর কমিটির সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
তারা উল্লেখ করেন, নজরদারির অভাবে খোলা ড্রাম বা গুদামে তেল মজুদ এবং পরিবহনকালে চুরির ঘটনা বাড়ছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বন্দরে তেলের জাহাজ পাইপলাইনে থাকলেও সাধারণ মানুষের শঙ্কা ও বিভ্রান্তি কাটছে না।
সংকট নিরসনে ক্যাব নেতৃবৃন্দ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন:
১. জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিপিসি ও পাম্প মালিক সমিতির সমন্বয়ে কোন পাম্পে কতটুকু তেল আছে তা নিয়মিত জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
২. স্থানীয় পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক মজুদের তথ্য প্রচার করা। ৩. অসাধু সিন্ডিকেট ও মজুদদারি রুখতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো।
৪. পাম্পগুলোতে তেলের সঠিক তথ্য নিশ্চিতে তদারকি জোরদার করা।
বিবৃতিতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার এবং সরকারি অফিসগুলোতে জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে কিনা তা পরিবীক্ষণে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে যুক্ত করার দাবি জানান ক্যাব নেতৃবৃন্দ।
নতুন নতুন আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।