বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:
- ১. সরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ।
- ২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ।
- ৩. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- ৪. হোটেল, ফার্মেসি ও কাঁচাবাজারের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে সরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে সরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ কমাতে দেশের সব শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাবাজার, ফার্মেসি ও খাবারের হোটেলগুলোকে এই সময়ের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “অফিসের সময় কিছুটা এগিয়ে আসায় বিকেলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো যাবে, তবে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাজার বা কেনাকাটা শেষ করাটা একটু চ্যালেঞ্জিং হবে। তবুও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই ত্যাগটুকু আমাদের মেনে নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ কিছুটা চিন্তিত হলেও সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, জ্বালানি সংকট যদি আরও ঘনীভূত হয় তবে পুরো ব্যবসা বাণিজ্যই থমকে যেতে পারে, সেই তুলনায় আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ যেহেতু জ্বালানি আমদানির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল, তাই দেশীয় রিজার্ভ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ধরে রাখতে সাশ্রয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন বিদ্যুৎ অপচয় কমাবে, অন্যদিকে যানজট নিরসনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি যেন সাধারণ ভোক্তাদের মনে কোনো ধরনের ভীতির সঞ্চার না করে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় এবং জরুরি সেবাগুলো খোলা থাকায় সাধারণ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা নেই। মূলত সংকটে পড়ার আগেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।










