বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, শেরপুর: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বসাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে এক নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চের সামনে আসন গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রণক্ষেত্র উপজেলা মাঠ
মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার জন্য দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন।
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
সংঘর্ষে দুই দলের অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং নির্বাচনি ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পুলিশের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বিএনপির দাবি: স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, জামায়াত কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
জামায়াতের দাবি: অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি কর্মীরা সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।