বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে বছরের পর বছর ধরে একটি চিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে—আর তা হলো জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির একচেটিয়া আধিপত্য। বিশেষ করে টয়োটা এবং হোন্ডার মতো ব্র্যান্ডগুলো ক্রেতাদের আস্থার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
২০২৬ সালের বর্তমান বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নির্ভরযোগ্যতা এবং দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে এই ব্র্যান্ডগুলোই রাজত্ব করছে।
নির্ভরযোগ্যতার মূল রহস্য
অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানি গাড়িগুলোর ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কনজারভেটিজম’ বা রক্ষণশীল প্রকৌশল পদ্ধতিই এদের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে। টয়োটা এবং হোন্ডা তাদের ইঞ্জিনে পরীক্ষিত এবং টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা বাংলাদেশের মতো ধুলোবালি ও ট্রাফিক জ্যামের শহরেও বছরের পর বছর কোনো বড় ধরনের ত্রুটি ছাড়াই চলতে সক্ষম।
একজন মেকানিক জানান, “একটি ১০ বছরের পুরনো টয়োটা করোলা বা হোন্ডা সিভিক এখনো যে সাবলীল পারফরম্যান্স দেয়, তা অনেক নতুন ব্র্যান্ডের গাড়িতেও পাওয়া কঠিন।”
কেন ক্রেতারা জাপানি ব্র্যান্ড বেছে নিচ্ছেন?
১. খুচরা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা: বাংলাদেশের যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও টয়োটা বা হোন্ডার খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। স্থানীয় মেকানিকরা এই ব্র্যান্ডগুলোর ইঞ্জিন গঠনে অত্যন্ত দক্ষ, যা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেকটা কমিয়ে আনে।
২. পুনঃবিক্রয় মূল্য (Resale Value): জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর পুনঃবিক্রয় মূল্য। ৫-৬ বছর ব্যবহারের পরেও এই গাড়িগুলো খুব ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়, যা ক্রেতাদের জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করে।
৩. জ্বালানি সাশ্রয় ও হাইব্রিড প্রযুক্তি: ২০২৬ সালের জ্বালানি সংকটের বাজারে টয়োটা অ্যাকুয়া, প্রিউস বা হোন্ডা ভেজেলের মতো হাইব্রিড মডেলগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই গাড়িগুলো প্রতি লিটার জ্বালানিতে যে মাইলেজ দেয়, তা অন্য ব্র্যান্ডের তুলনায় অনেক বেশি।
বর্তমানে দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শোরুমগুলোতে মোট বিক্রির প্রায় ৭০-৮০ শতাংশই জাপানি ব্র্যান্ডের দখলে। ক্রেতারা এখন শুধু গাড়ির বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, বরং জাপানি ‘অকশন শিট’ যাচাই করে গাড়ির সঠিক কন্ডিশন ও মাইলেজ দেখে নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, যত দিন পর্যন্ত দেশের রাস্তায় রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা একটি বড় ইস্যু হিসেবে থাকবে, তত দিন জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির এই আধিপত্য কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আমাদের কন্টেন্টগুলো নিয়মিত পেতে businesstoday24.com ফলো করুন ।