হেলথ ডেস্ক: খাদ্যতালিকায় লাল মাংস (গরু, খাসি বা ভেড়া) রাখা স্বাস্থ্যকর কি না—এই প্রশ্ন এখন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। একদিকে এটি উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন B12-এর অন্যতম প্রধান উৎস; অন্যদিকে সাম্প্রতিক একাধিক বিশ্ববিখ্যাত গবেষণা রেড মিট বা লাল মাংসের সাথে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের এক উদ্বেগজনক যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।
২০ লক্ষ মানুষের ওপর চালানো গবেষণার ফল: যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ৩১টি দেশের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের ওপর একটি বিশদ গবেষণা (The Lancet Diabetes & Endocrinology-তে প্রকাশিত) চালানো হয়। সেখানে দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত মাংস (যেমন- সসেজ বা বেকন) খান, তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৫% বেড়ে যায়। অন্যদিকে, দিনে ১০০ গ্রাম অপ্রক্রিয়াজাত লাল মাংস খেলে এই ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় প্রায় ১০%।
কেন বাড়ছে এই ঝুঁকি?
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, লাল মাংস সরাসরি রক্তে শর্করা না বাড়ালেও এর ভেতরের কিছু উপাদান শরীরকে রোগাক্রান্ত করে তোলে: ১. হিম আয়রন (Heme Iron): অতিরিক্ত আয়রন শরীরের অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোর ক্ষতি করতে পারে। ২. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: মাংসের স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা সোডিয়াম ও নাইট্রেটস শরীরের কোষগুলোকে ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল করে তোলে।
ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে আপনাকে একবারে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে না। তবে জীবনযাত্রায় নিচের পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি:
পরিমাণ কমান: সপ্তাহে একবার বা দুইবারের বেশি লাল মাংস না খাওয়ার চেষ্টা করুন।
বিকল্প খুঁজুন: প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাছ, মুরগির মাংস এবং উদ্ভিদজাত খাবার যেমন ডাল, মটরশুঁটি ও বাদামকে প্রাধান্য দিন।
রান্নার পদ্ধতি: অতিরিক্ত তাপে বা সরাসরি আগুনে পুড়িয়ে (যেমন গ্রিল বা বারবিকিউ) মাংস খাওয়া কমিয়ে কম আঁচে ঝোল করে রান্না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস কোনো বংশগত রোগ নয় বরং এটি লাইফস্টাইল বা জীবনাচারজনিত সমস্যা। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমই পারে এই মরণব্যাধি থেকে আমাদের সুরক্ষা দিতে।