Home পরিবেশ পাতালপুরীর খোঁজে: মানুষ ও প্রকৃতির তৈরি পৃথিবীর ৫গভীরতম গর্ত

পাতালপুরীর খোঁজে: মানুষ ও প্রকৃতির তৈরি পৃথিবীর ৫গভীরতম গর্ত

টাউটোনি গোল্ড মাইন
বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক:
পৃথিবীর উপরিভাগ সম্পর্কে আমাদের অনেক ধারণা থাকলেও, এর গভীরে কী আছে তা আজও রহস্য। হাজার বছর ধরে মানুষ কেবল প্রাকৃতিক গুহাগুলোই দেখতে পেরেছে। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে শক্তিশালী যন্ত্র আসার পর আমরা মাটির অনেক গভীরে খনন করতে শুরু করি। মানুষ আসলে কতদূর যেতে পেরেছে? চলুন জেনে নিই বিশ্বের গভীরতম ৫টি স্থান সম্পর্কে।
কোলা সুপারডিপ বোরহোল
১. কোলা সুপারডিপ বোরহোল: মানুষের তৈরি গভীরতম বিন্দু
রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে অবস্থিত এই গর্তটি মানুষের তৈরি পৃথিবীর গভীরতম স্থান। ১৯৭০ সালে সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা এটি খনন শুরু করেন। এটি প্রায় ১২,২৬২ মিটার (১২.২ কিলোমিটার) গভীর। মাটির নিচের প্রচণ্ড তাপমাত্রার (প্রায় ১৮০°C) কারণে ১৯৯২ সালে এর খননকাজ বন্ধ করে দিতে হয়।
ভেরোভকিনা গুহা
২. ভেরোভকিনা গুহা: প্রকৃতির গভীরতম রহস্য
জর্জিয়ায় অবস্থিত এই গুহাটি বর্তমানে বিশ্বের গভীরতম প্রাকৃতিক গুহা। ২০১৮ সালে অভিযাত্রীরা এর ২,২১১ মিটার গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হন। মাটির নিচে এই বিশাল গভীরতায় পৌঁছানো যেকোনো পর্বতারোহণের চেয়েও কঠিন।
৩. ক্রুবেরা গুহা: পাতালের প্রবেশদ্বার
এটিও জর্জিয়ায় অবস্থিত। ভেরোভকিনা আবিষ্কারের আগে এটিই ছিল বিশ্বের গভীরতম গুহা। এর গভীরতা প্রায় ২,১৯৭ মিটার। এই গুহার একদম তলদেশে পৌঁছাতে অভিযাত্রীদের কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে এবং অনেক জায়গায় পানির নিচ দিয়ে ডুব দিয়ে যেতে হয়।
৪. টাউটোনি গোল্ড মাইন: মাটির নিচের শহর
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত এই সোনার খনিটি বিশ্বের গভীরতম খনি। এটি মাটির নিচে প্রায় ৩.৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন, যেখানে মাটির নিচের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।
বিংহাম ক্যানিয়ন মাইন
৫. বিংহাম ক্যানিয়ন মাইন: মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এই তামার খনিটি একটি বিশাল কৃত্রিম গর্তের মতো। এটি প্রায় ১.২ কিলোমিটার গভীর এবং ৪ কিলোমিটার প্রশস্ত। এটি এতই বড় যে মহাকাশ থেকেও এই গর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৬,৩৭৮ কিলোমিটার। সেই তুলনায় মানুষ এখন পর্যন্ত মাত্র ১২ কিলোমিটার গভীরে পৌঁছাতে পেরেছে। ভূ-গর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপ জয় করে আরও গভীরে যাওয়া বিজ্ঞানের জন্য এখনও এক বড় চ্যালেঞ্জ।