জানুন প্লাস্টিকের বিকল্প ও প্রতিকার
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সকালে বাচ্চার স্কুলের ব্যাগে টিফিন গুছিয়ে দেওয়া প্রতিটি মায়ের প্রাত্যহিক কাজ। কিন্তু যে রঙিন প্লাস্টিক বক্সে আপনি পরম মমতায় খাবারটি ভরে দিচ্ছেন, সেটিই হয়তো আপনার সন্তানের দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সম্প্রতি চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, প্লাস্টিক পাত্রে গরম খাবার রাখা এবং তা নিয়মিত গ্রহণ করা ক্যানসারসহ হরমোনজনিত জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্লাস্টিকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপদ
চিকিৎসকদের মতে, বাজারে সস্তায় পাওয়া বাহারি প্লাস্টিক বক্স তৈরিতে বিসফেনল-এ (BPA) এবং থ্যালেটস-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। যখনই এই পাত্রে গরম খাবার রাখা হয়, তখনই শুরু হয় ‘লিচিং’ (Leaching) প্রক্রিয়া। এর ফলে প্লাস্টিকের রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের সঙ্গে মিশে যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, এই বিষাক্ত রাসায়নিক শিশুদের শরীরে প্রবেশ করলে:
হরমোনজনিত সমস্যা: থাইরয়েড এবং বয়ঃসন্ধিকালীন জটিলতা তৈরি করে।
স্থূলতা: শিশুদের ওজন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়।
ক্যানসারের ঝুঁকি: দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে শরীরে কার্সিনোজেনিক প্রভাব পড়ে।
এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ‘বিপিএ ফ্রি’ (BPA Free) লেবেল থাকলেও প্লাস্টিক পুরোপুরি নিরাপদ নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুরনো প্লাস্টিক বক্স বদলে নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. স্টেইনলেস স্টিল: এটি বর্তমানে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প। কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না, পরিষ্কার করা সহজ এবং টেকসই। তবে অবশ্যই ভালো মানের ‘ফুড-গ্রেড’ স্টিল নিশ্চিত করতে হবে। ২. কাচের পাত্র: বড়দের বা অফিসযাত্রীদের জন্য এটি চমৎকার। এটি রাসায়নিকমুক্ত এবং খাবারের পুষ্টি ও স্বাদ অটুট রাখে। তবে শিশুদের জন্য এটি ভারী এবং ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ৩. সিলিকন কন্টেইনার: বর্তমানে ভালো মানের ফুড-গ্রেড সিলিকন বক্স পাওয়া যায় যা প্লাস্টিকের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।
পুষ্টিবিদদের মতে, টিফিন বক্স কেনার সময় সেটি যেন এয়ার-টাইট এবং লিক-প্রুফ হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। এছাড়া পিতল বা তামার পাত্রে খাবার রাখা গেলেও টক বা অ্যাসিডিক খাবার (যেমন: লেবু, টমেটো বা সস) রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে, নতুবা ‘মেটাল পয়জনিং’ হতে পারে।
উপসংহার: আপনার ছোট্ট একটি সচেতন সিদ্ধান্ত সন্তানকে সুস্থ রাখতে পারে। প্লাস্টিকের রঙিন হাতছানি এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর পাত্র ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন আজই। সুরক্ষিত থাকুক আগামীর প্রজন্ম।










