Home আন্তর্জাতিক বাংলাদেশের জন্য ১ লাখ টন চাল কেনার টেন্ডার পাকিস্তানের

বাংলাদেশের জন্য ১ লাখ টন চাল কেনার টেন্ডার পাকিস্তানের

সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ১ লাখ টন চাল কেনার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করেছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ পাকিস্তান (টিসিপি)। দীর্ঘ কয়েক দশকের শীতল সম্পর্কের পর ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের যে উন্নতি হয়েছে, এই পদক্ষেপকে তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টেন্ডারের বিস্তারিত
টিসিপির প্রকাশিত নথির বরাতে জানা যায়, এই দরপত্রে অংশ নেওয়ার সময়সীমা ছিল আজ ২৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। টেন্ডারে ১ লাখ টন ‘লং গ্রেইন হোয়াইট রাইস’ (ইরি-৬ বা IRRI-6) কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই চাল করাচি বন্দরের মাধ্যমে ব্রেক বাল্ক কার্গো হিসেবে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হবে।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী সরবরাহকৃত চাল অবশ্যই পাকিস্তানের সর্বশেষ মৌসুমের ফলন হতে হবে এবং তা মানুষের খাওয়ার সম্পূর্ণ উপযুক্ত, দুর্গন্ধমুক্ত ও পোকা-মাকড় মুক্ত হতে হবে।

বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি
বাংলাদেশে চালের স্থানীয় বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করেছে। রয়টার্সের মতে, ব্যবসায়ীরা মনে করছেন পাকিস্তানের এই টেন্ডার বাংলাদেশের আমদানি উৎসে বৈচিত্র্য আনবে এবং পাকিস্তানি চালের প্রবেশ নিশ্চিত করবে। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কিছু কেনাকাটায় ভারতীয় উৎসের চালও ব্যবহৃত হতে পারে।

পাকিস্তান-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির মাধ্যমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি জি টু জি (সরকার থেকে সরকার) বাণিজ্য শুরু হয়। এরপর গত মাসে অনুষ্ঠিত ৯ম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠকে পাকিস্তান ঢাকাকে চীন ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যের জন্য ‘গেটওয়ে’ হিসেবে করাচি বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক নৈকট্যের ইঙ্গিত দেয়।

পাকিস্তানের রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ
এদিকে, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পাকিস্তানের চাল রপ্তানি ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভারতের চাল রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়া এবং বাসমতি চালের ওপর থেকে ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য তুলে নেওয়ায় বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে পাকিস্তান। তবে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের (বাসমতি চালসহ) ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় মার্কিন বাজারে পাকিস্তানের চাল রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

টিসিপির এই উদ্যোগ সফল হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।