- বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার শঙ্কা
- জেবেল আলী এবং ওমানের দুকুম বন্দরে রকেট হামলা
- মায়েরস্ক এবং সিএএম সিজিএম কার্যক্রম স্থগিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আয়তাতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ভয়াবহ হামলায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পারস্য উপসাগর। আজ সকালে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনীর গোলার আঘাতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) সম্ভাব্য হামলার মুখে অন্তত ১৫০টি বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কার বর্তমানে মাঝসমুদ্রে নোঙর ফেলে অবস্থান করছে। ১০০ মাইল দীর্ঘ এবং মাত্র ২৪ মাইল প্রশস্ত এই সরু পথ দিয়ে যাতায়াত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো।
মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে এই পথে যাতায়াতকারী কোনো জাহাজের নিরাপত্তার গ্যারান্টি তারা দিতে পারছে না।
ওমান উপকূলে ‘স্কাইলাইট’ (Skylight) নামক পালাউ-পতাকাবাহী একটি ট্যাঙ্কারে হামলা চালালে সেটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি থেকে ভারতীয় ও ইরানি নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছে ৪ জন নাবিক। মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘এমকেডি ব্যোম’ (MKD VYOM) নামক আরেকটি জাহাজও প্রজেক্টাইল হামলার শিকার হয়েছে।
দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর এবং ওমানের দুকুম বন্দরেও ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। দুকুম বন্দরটি মার্কিন নৌবাহিনী লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এমনকি আবুধাবির একটি নৌঘাঁটিতেও তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এগুলোর দুটি প্রতিহত করার দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেলের ২০ শতাংশ এবং লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাসের (LNG) ২৫ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। শিপিং বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যা চার বছর আগে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সময়ও দেখা যায়নি।
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার বলেন, “যখন আমেরিকা ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল, ঠিক তখনই এই ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে যাচ্ছে।”
ইউরোপীয় শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক (MAERSK) এবং সিএএম সিজিএম (CAM CGM) ইতিমধ্যে এই রুটে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওপেক প্লাস (OPEC+) এপ্রিল মাস থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ২ লক্ষ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে, যদিও তারা সরাসরি ইরান সংকটের কথা উল্লেখ করেনি। তবে এই পদক্ষেপ বাজারের অস্থিরতা কতটা কমাতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।
বিস্তারিত জানতে ও নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।










