Home Second Lead ঠকবাজির হাট: মোবাইল অ্যাকসেসরিজে গ্রাহকের পকেট সাবাড়

ঠকবাজির হাট: মোবাইল অ্যাকসেসরিজে গ্রাহকের পকেট সাবাড়

অনুসন্ধান:

আসলের নামে নকলের মেলা

কামরুল হাসান

স্মার্টফোন এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর এই সুযোগেই মোবাইল অ্যাকসেসরিজের বাজারে জেঁকে বসেছে একদল অসাধু চক্র। চার্জার থেকে শুরু করে ইয়ারফোন—সবকিছুতেই চলছে ‘ব্র্যান্ডেড’ স্টিকারের আড়ালে নিম্নমানের চায়না পণ্যের রমরমা কারবার। সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে সরেজমিনে গিয়ে এবং মোবাইল কোর্টের অভিযানে উঠে এসেছে প্রতারণার চোখ কপালে ওঠার মতো সব তথ্য।

সরেজমিনে ও অভিযানে ধরাপড়া ডিজিটাল কারচুপি

১. প্যাকেট আসল, পণ্য নকল: অভিযানে দেখা গেছে, স্যামসাং, অ্যাপল বা শাওমির মতো নামী ব্র্যান্ডের হুবহু নকল প্যাকেট তৈরি করে তার ভেতরে অত্যন্ত নিম্নমানের অ্যাডাপ্টার বা ক্যাবল ভরা হচ্ছে। কিউআর কোড স্ক্যান করলে অনেক সময় আসল ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেখালেও ভেতরের সার্কিট থাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ম্যাজিস্ট্রেট যখন একটি ‘অরিজিনাল’ দাবি করা চার্জার খুলে দেখান, দেখা যায় সেটির ভেতরে স্রেফ একটি লোহার টুকরো আঠা দিয়ে লাগানো হয়েছে যাতে ওজন বেশি মনে হয়।
২. ব্যাটারির ভেলকিবাজি: অনেক দোকানে পুরোনো বা রিফারবিশড ব্যাটারিকে নতুন মোড়কে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি পাওয়ার ব্যাংকের ভেতর বালু ভর্তি ছোট ছোট প্যাকেট পাওয়া গেছে, যা কেবল ওজন বাড়ানোর জন্য দেওয়া হয়। এতে কয়েকদিন ব্যবহারের পরেই ব্যাটারি ফুলে যায় বা বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
৩. ‘ওয়ারেন্টি’ নামের ফাঁদ: বিক্রেতারা ছয় মাস বা এক বছরের ওয়ারেন্টির প্রতিশ্রুতি দিলেও আদতে কোনো মানসম্মত রশিদ দেওয়া হয় না। পণ্য নষ্ট হয়ে গেলে ‘পানি ঢুকেছে’ বা ‘শর্ট সার্কিট হয়েছে’ বলে দায় গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। মোবাইল কোর্টের জেরার মুখে এক বিক্রেতা স্বীকার করেন, তারা জানেন এই পণ্যগুলো টিকবে না, তবুও বেশি লাভের আশায় সাধারণ মানুষকে এগুলো গছিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ ও মতামত
শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ জানান:
> “১৫০০ টাকা দিয়ে অরিজিনাল চার্জার কিনলাম, দুই সপ্তাহ না যেতেই মোবাইলের পোর্ট জ্বলে গেল। দোকানে নিয়ে গেলে উল্টো আমাকেই দোষারোপ করা হলো। ব্র্যান্ডের লোগো দেখে বিশ্বাস করেছিলাম, এখন দেখি সবই ভুয়া।”
ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন:
> “বাজারে এখন আসল আর নকল চেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিক্রেতারা চোখের পলকে প্যাকেট বদলে দেয়। প্রশাসন যদি এই আমদানিকারকদের উৎস বন্ধ না করে, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এভাবে ঠকতেই থাকবে।”
স্মার্টফোনের ক্ষতি এড়াতে কেবল কম দামের লোভে ফুটপাত বা অনিবন্ধিত দোকান থেকে চার্জার বা ব্যাটারি কিনবেন না। কেনার সময় অবশ্যই ডিলার বা অনুমোদিত শোরুম থেকে ক্যাশ মেমোসহ পণ্য সংগ্রহ করুন। আপনার সুরক্ষাই আপনার সতর্কতা।
মোবাইল এক্সেসরিজের এই জালিয়াত চক্র সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের জানান। নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রতিবেদন পড়তে এবং আপনার মন্তব্য দিতে businesstoday24.com ফলো করুন।