টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এক যুগান্তকারী খবর নিয়ে এসেছেন গবেষকরা। দীর্ঘদিনের প্রতিদিনের ইনসুলিন ইনজেকশনের ভোগান্তি কমিয়ে বছরে মাত্র একটি ইনজেকশনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণের নতুন একটি ট্রায়াল বা পরীক্ষা এ বছরই শুরু হতে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা একে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের একটি ‘পটেনশিয়াল কিউর’ বা সম্ভাব্য নিরাময় হিসেবে দেখছেন।
পেশিই হবে ইনসুলিন তৈরির কারখানা
‘KRIYA-839’ নামক এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিটি মূলত একটি জিন থেরাপি। প্রথাগত ইনসুলিন ইনজেকশনের মতো এটি কাজ করে না। বরং এই থেরাপিটি রোগীর শরীরের পেশিকে ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষে রূপান্তরিত করবে। ঊরুতে মাত্র একবার ইনজেকশন দেওয়ার মাধ্যমে পেশি কোষগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইনসুলিন এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণকারী অন্যান্য প্রোটিন তৈরি শুরু করবে। গবেষকদের মতে, এর প্রভাব কয়েক বছর এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এটি কীভাবে কাজ করে?
গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো ‘জিন এডিটিং’ নয় এবং এতে মানুষের ডিএনএ-তে কোনো পরিবর্তন আনা হয় না। এটি কেবল পেশি কোষগুলোতে কিছু জেনেটিক নির্দেশনা পৌঁছে দেয়, যা কোষগুলোকে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ইনসুলিন তৈরি করতে সাহায্য করে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাণীদের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই থেরাপি চার বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
ট্রায়াল ও বিশেষজ্ঞ মতামত
এ বছরের ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাডভান্সড টেকনোলজিস অ্যান্ড ট্রিটমেন্টস ফর ডায়াবেটিস’-এ এই ট্রায়ালের কথা ঘোষণা করা হয়। এনএইচএস ইংল্যান্ডের ডায়াবেটিস বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ড. পার্থ কর এই পদ্ধতিকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি যদি কাজ করে তবে এটি একটি ‘ফাংশনাল কিউর’ বা কার্যকরী নিরাময় হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি যদি এটি ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা শতভাগ নির্মূল করতে না পেরে ৭৫ শতাংশও কমিয়ে দেয়, তবে তা হবে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় এক বিশাল বিপ্লব।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জেরেমি পেটাস জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস কমিউনিটি সাধারণত শুনে অভ্যস্ত যে সমাধান আসতে আরও ১০-১৫ বছর লাগবে। কিন্তু এবারই প্রথম আত্মবিশ্বাসের সাথে বলা যাচ্ছে যে, এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনটি এখনই ঘটতে শুরু করেছে।
আগামীর প্রত্যাশা
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার মানুষ এই দুরারোগ্য টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যাদের প্রতিদিন ইনসুলিন পাম্প বা ইনজেকশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রথম দফার ট্রায়ালটি এক বছর ধরে চলবে। ফলাফল ইতিবাচক হলে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। যদি বিজ্ঞানীরা সফল হন, তবে প্রতিদিনের ইনজেকশন ও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন কোটি কোটি রোগী।