মোস্তফা তারেক, নিউইয়র্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। তবে এই পরিবর্তন যেমন একদিকে পুঁজিবাজার ও কর্পোরেট খাতে চাঞ্চল্য এনেছে, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে তৈরি করেছে নতুন চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতির বর্তমান চিত্র: প্রবৃদ্ধি বনাম মুদ্রাস্ফীতি
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সাল মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি ‘বুম ইয়ার’ বা অভাবনীয় সাফল্যের বছর হতে যাচ্ছে। বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের মতে, এই বছরের শেষ নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬% ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস কিছুটা ভিন্ন। গোল্ডম্যান স্যাকস বা আইএমএফ-এর মতো সংস্থাগুলো প্রবৃদ্ধি ২% থেকে ২.৫%-এর মধ্যে থাকার সম্ভাবনা দেখছে।
শুল্কারোপ ও বাণিজ্য যুদ্ধ: ট্রাম্পের সিগনেচার পলিসি হিসেবে চীন, মেক্সিকো এবং কানাডার ওপর উচ্চহারে শুল্ক বসানো হয়েছে। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে গড় কার্যকর শুল্ক হার ১০.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ১৯৪৬ সালের পর সর্বোচ্চ।
নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (Deregulation): জ্বালানি ও আর্থিক খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। ইলন মাস্কের নেতৃত্বে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ (DOGE) সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।
সাধারণ নাগরিকদের মনোভাব: প্রাপ্তি ও অসন্তুষ্টির হিসাব
সারাদেশে জনমতের একটি বড় অংশ বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন ও গ্যালাপের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী:
জীবনযাত্রার ব্যয়: প্রায় ৮০% মার্কিনি মনে করছেন তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম ট্রাম্পের নীতির কারণে বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রোসারি বা খাবারের দাম বছরে প্রায় ৩.১% হারে বাড়ছে।
অনুমোদনের হার (Approval Rating): ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির ওপর জনগণের সন্তুষ্টির হার কমে এখন ৩১% থেকে ৩৯%-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে এই সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা: মেডিকএইড (Medicaid) এবং ফুড স্ট্যাম্প (SNAP) কর্মসূচিতে কাটছাঁট করায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ৬১% নাগরিক মনে করেন তাদের স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা
সব নেতিবাচকতার মাঝেও ইতিবাচক দিক হলো স্টক মার্কেট। ট্রাম্পের ট্যাক্স কাট এবং কর্পোরেট বান্ধব নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী। প্রায় ৫৫% মার্কিনি বিশ্বাস করেন যে ২০২৬ সালেও পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসন যখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তখন সাধারণ আমেরিকানরা উচ্চমূল্যস্ফীতি এবং শুল্ক যুদ্ধের প্রভাবে হিমশিম খাচ্ছেন। ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অর্থনৈতিক ফলাফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।