বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, বগুড়া: দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অবশেষে নিজের চেনা জনপদ, রাজনীতির সুতিকাগার বগুড়ায় পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১১ জানুয়ারি তার এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় এখন উৎসবের আমেজ। সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে অভাবনীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা।
ঢাকার বাইরে প্রথম সফর হিসেবে তারেক রহমান নিজের জন্মমাটি বগুড়াকে বেছে নেওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। শহরের সাতমাথা, বনানী, থেকে শুরু করে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘তারেক রহমানের আগমন’। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় বইছে আনন্দের ঢেউ। সাধারণ মানুষের মুখে একটাই কথা, “ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছে।”
সফরের মূল সূচি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ১১ জানুয়ারি (রোববার) বগুড়ায় এসে পৌঁছাবেন এবং সেখানেই রাতযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১২ জানুয়ারি (সোমবার) তার ব্যস্ততম কর্মসূচি রয়েছে:
সকাল ১০টা: আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে মা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত ‘গণদোয়া’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।
মাজার জিয়ারত: রংপুর যাওয়ার পথে মহাস্থানগড়ে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করবেন।
সীমানা পর্যন্ত সংবর্ধনা: শিবগঞ্জ উপজেলার সীমানা রহবল পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বিশাল বহর নিয়ে এগিয়ে দেবেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমাদের গর্বের সন্তান আমাদের মাঝে আসছেন। এটি শুধু রাজনৈতিক সফর নয়, এটি বগুড়াবাসীর আবেগ।” অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জানান, শিবগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
তারেক রহমান এবার বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। আইনি বাধা কেটে যাওয়ায় এবং সশরীরে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুটা বগুড়া থেকে করায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
বগুড়ার সাধারণ জনগণের মতে, তারেক রহমানের এই সফর কেবল উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও এক বিশাল প্রভাব ফেলবে। এখন সবার অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন ১৯ বছর পর প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ মিলবে।










