বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ফেনী: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত ও পৈতৃক জেলা ফেনীতে বইছে উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ দুই দশক পর জেলায় পা রাখছেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল ২৫ জানুয়ারি (রবিবার) ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—সর্বত্রই এখন সাজসাজ রব।
স্মৃতির আঙিনায় ‘ভাগিনা’র অপেক্ষা
ফেনীর মানুষের কাছে তারেক রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং তাদের ঘরের সন্তান। স্থানীয়দের ভাষায় তিনি ‘নবাবাড়ির ভাগিনা’। শহরতলীর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের অলিগলি—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তারেক রহমানের এই সফর।
সরেজমিনে ফেনীর ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া আবেগ। স্থানীয় এক বাসিন্দা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “মামার বাড়ির লোক হিসেবে উনি আমাদের কারো নাতি, কারো ভাগিনা, আবার কারো ভাই। উনাকে এক নজর দেখার জন্য আর সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” দক্ষিণ শ্রীপুরের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “আমাদের ভাগিনা আসতেছে। তিনি আমাদের নেতাও বটে। ফেনীর মানুষ উনাকে খালি হাতে ফেরাবে না।”
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও জনসভার প্রস্তুতি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর ছাগলনাইয়ায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। এই জনসভায় ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ১৩টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন তিনি।
ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুন্সি রফিকুল আলম বলেন, “ফেনী হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এলাকা। তারেক রহমান এখন দলের চেয়ারম্যান। সবকিছু মিলিয়ে তার এই সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ।”
উন্নয়নের দাবি ও শহীদ পরিবারের পাশে
রাজনীতির পাশাপাশি এই সফর ঘিরে ফেনীবাসীর প্রত্যাশাও আকাশচুম্বী। উত্তরের তিন উপজেলার বন্যা সমস্যা নিরসন, দক্ষিণের নদী ভাঙন রোধে মুসাপুর ক্লোজার নির্মাণ এবং মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান স্থানীয়রা।
এক বাসিন্দা বলেন, “বন্যা নিয়ন্ত্রণে যেন ফেনীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, উনার কাছে আমাদের এটাই চাওয়া।”
জনসভার পাশাপাশি তারেক রহমান ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনে নিহত আটজন শহীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারায় জুলাই শহীদ ওয়াকিল আহমেদ শিহাবের কবর জিয়ারত করবেন এবং ফুলগাজীর দক্ষিণ শ্রীপুরে নানাবাড়ির স্মৃতিবিজড়িত মজুমদার বাড়িতেও যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
নিরাপত্তা ও জনস্রোতের প্রত্যাশা
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, ২৫ জানুয়ারির এই জনসভা ফেনীর ইতিহাসে বৃহত্তম জনস্রোতে পরিণত হবে। এর আগে ২০০৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের এই সমাবেশকে ঘিরে নতুন করে উজ্জীবিত ফেনীর রাজপথ।