বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে নামার আগেই এক নাটকীয় মোড় নিলেন ঢাকা-৯ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। বিপুল জনসমর্থন আর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে এগোতে চাইলেও, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ‘কাগজে-কলমে’র মারপ্যাঁচে আটকে গেল তার মনোনয়নপত্র।
তবে এটি কোনো বড় ধরনের অনিয়ম নয়, বরং মাত্র দুজন ভোটারের ‘অজ্ঞতা’র কারণেই আপাতত থমকে দাঁড়িয়েছে তার নির্বাচনী যাত্রা।
কাগজ-কলমের ব্যবচ্ছেদ: কেন এই বাতিল?
শনিবার সকালে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই ঘোষণা আসে। ডা. জারার মনোনয়নপত্র বাতিলের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে প্রস্তাবক ও সমর্থকদের ভোটার তালিকাগত অসঙ্গতি।
স্বাক্ষরের আধিক্য: স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য মোট ভোটারের ১% (৪,৩০০ জন) স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, যা জারার তালিকায় পর্যাপ্ত ছিল।
ভৌগোলিক বিভ্রান্তি: যাচাই-বাছাই করা ১০ জন ভোটারের মধ্যে ৮ জন সঠিক থাকলেও বাকি ২ জন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার ছিলেন না।
প্রার্থীর যুক্তি: ডা. জারা জানান, ওই দুই ভোটারের একজন জানতেনই না তিনি এই আসনের বাইরে। অন্যজনের হার্ড কপি এনআইডিতে ঢাকা-৯ এর ঠিকানা থাকলেও ইসির ডিজিটাল ডাটাবেসে তা ভিন্ন ছিল।
সম্পদ নয়, স্বচ্ছতাই যেখানে পুঁজি
হলফনামার তথ্যানুসারে, তাসনিম জারা এক ভিন্ন ঘরানার প্রার্থী। ১৯ লাখ টাকার সাধারণ সম্পদ, কোনো বাড়ি-গাড়ি বা অকৃষি জমি না থাকা এবং কোনো ঋণ বা ফৌজদারি মামলা না থাকা তাকে একজন ‘ক্লিন ইমেজ’ এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পেশায় চিকিৎসক এই প্রার্থীর আয়ের উৎস মূলত চাকরি এবং প্রবাসী আয়।
রাজনীতির বাঁক বদল
উল্লেখ্য, তাসনিম জারা সম্প্রতি এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে তার দলের নির্বাচনী জোট করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তিনি এই কঠোর অবস্থান নেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এখন কী হবে?
মনোনয়ন বাতিল হলেও ডা. জারার হাতে এখনো সময় আছে। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি কি পারবেন ঢাকা-৯ এর মূল লড়াইয়ে ফিরতে?
“দুই জন ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে গরমিল পাওয়া গেছে। তাদের একজন জানতেনই না তিনি অন্য এলাকার ভোটার। তবে আমাদের হাতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।” — তাসনিম জারা










