মোস্তফা তারেক, নিউইয়র্ক: ভয়াবহ তুষারঝড় ‘ফার্ন’-এর প্রভাবে গত কয়েকদিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচল চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার’ (FlightAware)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ১৯,০০০-এরও বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
অতিমারি পরবর্তী ভয়াবহতম বিপর্যয়
তুষারঝড়ের প্রভাবে গত রবিবার ছিল বিমান চলাচলের জন্য সবচেয়ে খারাপ দিন। ওই একদিনেই ১১,০০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়, যা করোনা মহামারির শুরুর দিনগুলোর পর এক দিনে সর্বোচ্চ ফ্লাইট বাতিলের রেকর্ড। ভারি তুষারপাত ও বরফে ঢাকা রানওয়ের কারণে দেশটির প্রধান বিমানবন্দরগুলো অচল হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর
তদন্ত ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ‘বিজনেস ইনসাইডার’ একটি ম্যাপ প্রকাশ করেছে যেখানে ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরের চিত্র উঠে এসেছে:
ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ (DFW): টেক্সাসের এই বিমানবন্দরটি সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এই প্রধান হাবটিতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ৪ ইঞ্চি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়, যার ফলে নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই বাতিল করতে হয়েছে।
বোস্টন লোগান বিমানবন্দর: সোমবার সকালেও এখানে অচলাবস্থা বজায় ছিল, যেখানকার ৬০% ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
নিউ ইয়র্ক এলাকা: জেএফকে (JFK), লাগার্ডিয়া এবং নেওয়ার্ক—এই তিনটি বিমানবন্দরেই প্রায় ১,৫০০টি করে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। প্রতিটি স্থানেই প্রায় ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শার্লট ডগলাস: আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এই হাবে প্রায় ২,০০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এয়ারলাইন্সগুলোর পদক্ষেপ
আমেরিকান এয়ারলাইন্স এবং ডেল্টা এয়ারলাইন্স সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের জন্য টিকিটের রি-বুকিং ফি মকুব করেছে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স আটকে পড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে ডালাস ও শার্লট রুটে অতিরিক্ত ৬,০০০-এর বেশি সিটের ব্যবস্থা করেছে। ডেল্টা এয়ারলাইন্স দক্ষিণ অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতে আইস সরানোর জন্য অভিজ্ঞ কর্মী ও অতিরিক্ত পাইলট মোতায়েন করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করলেও এখনও হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, তুষারপাত কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে, তবে অনেক জায়গায় এখনও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা ও পিচ্ছিল রানওয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।