Home First Lead তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালি সংকট: অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপের শঙ্কা

তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালি সংকট: অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপের শঙ্কা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার ফলে সৃষ্ট উত্তেজনা এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ যে সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালি এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার উপক্রম।

এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি সাময়িকভাবে বন্ধ বা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৬১ ডলার থেকে বেড়ে ৬৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর—এই চারটি দেশ থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি করছে। ফলে আপাতত বড় ধরনের দুশ্চিন্তা নেই এবং বিপিসির কাছে আগামী ১৫ দিনের বেশি সময়ের তেলের মজুত সংরক্ষিত আছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়, তবে সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশকেও বড় ধরনের সংকটে পড়তে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে বিপিসির আমদানি ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি জাহাজ ভাড়া ও বিমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক খরচও অনেক বেড়ে যাবে।

অন্যদিকে দেশের এলএনজি বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নূরুল আলম। তিনি জানান যে, যেহেতু এটি একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ, তাই জ্বালানি তেল, এলএনজি এবং এলপিজি—সবকিছুর ওপরই এর প্রভাব পড়বে।

বর্তমান মজুত দিয়ে কিছুদিন চালানো সম্ভব হলেও সরকারের মূল চিন্তা এখন এলএনজি নিয়ে। কারণ, বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদার ৩০ শতাংশের বেশি পূরণ হয় এলএনজি দিয়ে, যার বড় অংশই আসে কাতার ও ওমান থেকে। কাতার থেকে এলএনজি আমদানির একমাত্র পথ হরমুজ প্রণালি হওয়ায় এটি বন্ধ হলে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

সচিব আরও জানান যে, আসন্ন তিনটি এলএনজি কার্গোর বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যদিও বাকিগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় সেগুলো পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের মতে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর বড় একটি অংশের এলএনজি আসে কাতার থেকে। সমুদ্রপথ ছাড়া এলএনজি আমদানির অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় এই রুট বন্ধ হওয়া মানেই সরবরাহ পুরোপুরি থমকে যাওয়া। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা এবং শিল্প খাতে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং আসন্ন গ্রীষ্মে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে।

এছাড়া আমদানি বিল বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আরও আপডেটেড সংবাদ ও বিশ্লেষণের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মন্তব্য জানান।