Home Second Lead দুধ ডিম মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ

দুধ ডিম মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ

কামরুল ইসলাম, ঢাকা: দেশের প্রাণিসম্পদ খাত গত এক দশকে অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল উৎপাদন খাতে পরিণত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় খাতটির অবদান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান। দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং খামারভিত্তিক উদ্যোক্তা গড়ে ওঠার প্রবণতা এ খাতকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত করেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে উৎপাদিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মুরগির মাংস, ডিম এবং গরু ও ছাগলের মাংস। ছোট খামার থেকে শুরু করে আধুনিক বাণিজ্যিক খামার পর্যন্ত বিস্তৃত এই নেটওয়ার্কে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিশেষ করে শহর ঘেষা গ্রামগুলোতে হাঁস-মুরগি ও ছাগল চাষ এখন পরিবারের অতিরিক্ত আয়ের অন্যতম প্রধান উপায় হয়ে উঠেছে। নারী উদ্যোক্তার অংশগ্রহণও এ খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দুধ উৎপাদনেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আগে যেসব অঞ্চলে দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্র ছিল না, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে শীতলীকরণ কেন্দ্র, টেস্টিং ল্যাব এবং সংগ্রহ সুবিধা। ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত দুধ ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারছেন এবং দুধের গুণগতমানও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। দেশের বেশ কয়েকটি বড় ব্র্যান্ড এখন স্থানীয় দুধ সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা স্থানীয় দুগ্ধশিল্পকে আরও শক্তিশালী করছে।

গবাদিপশুর উন্নয়নেও দেখা গেছে অগ্রগতি। উন্নত জাতের গরু উৎপাদনে কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের পশুচিকিৎসা সেবার ফলে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। অনেক খামার এখন রোগ মোকাবিলা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি নানা চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক খামারি উৎপাদন খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে নিম্নমানের ওষুধ ও খাবারের উপস্থিতি খামারিদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। মৌসুমি রোগবালাই এবং পর্যাপ্ত ভেটেরিনারি সেবার অভাব কিছু অঞ্চলে এখনো বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রশিক্ষণ বাড়ানো, মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাশাপাশি দুধ ও মাংস প্রক্রিয়াজাত শিল্প আরও বিস্তৃত হলে দেশ শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতা করতে পারবে। ইতোমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে মাংস রপ্তানি শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। পুষ্টির চাহিদা পূরণ, দারিদ্র্য হ্রাস, উদ্যোক্তা তৈরি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রবাহ সচল করার মাধ্যমে খাতটি জাতীয় উন্নয়নে একটি দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছে।

লাইক দিন 👍, শেয়ার করুন 🔁, এবং মন্তব্যে জানান আপনার মতামত!