Home অন্যান্য কনে নেই, তবু বিয়ে হয়: দক্ষিণ সুদানে ‘নকল কন্যার বিয়ে’

কনে নেই, তবু বিয়ে হয়: দক্ষিণ সুদানে ‘নকল কন্যার বিয়ে’

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: বিয়ে মানেই কি দুটি মানুষের সম্পর্ক? দক্ষিণ সুদানের নুয়ের উপজাতি সে ধারণাকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলে। এখানে কনে না থাকলেও বিয়ে হয় তাও একেবারে পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান আর গরু বিনিময়সহ!
এই অভিনব প্রথাটি পরিচিত “প্রতীকী নারী” বা “নকল কনের বিয়ে” নামে।

কিভাবে ঘটে এই বিয়ে?

নুয়ের সমাজে বিয়ের মূল ভিত্তি হলো সম্পদ বিনিময়, বিশেষ করে গরু। ছেলের পরিবার বিয়েতে মেয়ের পরিবারকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক গরু দেয়। তবে অনেক সময় বাস্তবে কোনো কনে পাওয়া না গেলেও, সম্পদ বিনিময়ের এই চুক্তি পূরণ করার জন্য এক কল্পিত বা প্রতীকী নারীকে বিয়ের অনুষ্ঠানে দাঁড় করানো হয়।

কে হয় সেই নকল কনে?

এই কল্পিত কনে হতে পারে—

  • এক মৃত নারী আত্মীয়, যিনি জীবিত অবস্থায় বিয়ে করেননি
  • কোনো নারী আত্মীয়, যিনি নিজের সন্তান থাকলেও সমাজে বিয়ের বন্ধনে ছিলেন না
  • বা একেবারে অদৃশ্য কনে, যার নামেই শুধু বিয়ের আয়োজন হয়, কিন্তু সে বাস্তবে নেই

বিয়ের সময় উপস্থিত থাকেন পুরোহিত বা গ্রামের প্রবীণরা, হয়তো একজন নারী তার হয়ে প্রতীকী উপস্থিতি দেন। বর সেই কল্পিত কনেকেই স্বীকার করে এবং গরু বিনিময় করে।

কেন এই রীতি?

এই রীতির পেছনে রয়েছে সমাজতাত্ত্বিক কিছু কারণ—

  • সম্পদ বিনিময়ের চুক্তি: নুয়ের সমাজে গরু বিনিময় সামাজিক মর্যাদা ও বংশগতি নির্ধারণ করে।
  • নারীর সন্তানধারণ ক্ষমতা: কখনও কখনও কোনো নারী নিজের জন্য স্বামী না এনে অন্য নারীর সন্তান দত্তক নিয়ে নিজের বংশ চালান।
  • পুরুষের সম্মান বাঁচানো: সমাজে বিবাহিত না হলে পুরুষকে সম্মানহীন মনে করা হয়। প্রতীকী বিয়ে সেই সম্মান পূরণ করে।

সন্তান হলে?

অবিশ্বাস্য শোনালেও, নুয়ের সমাজে এই ‘নকল কনে’র সন্তান থাকলে সেই সন্তান সম্পূর্ণভাবে বর ও তার পরিবারের উত্তরাধিকারী হয়ে যায়—even if the woman had the child with another man!

সমাজ ও আধুনিকতার দ্বন্দ্ব

এই রীতিকে কেউ দেখেন বংশ রক্ষা ও সম্পদ বিনিময়ের এক অভিনব ব্যবস্থা হিসেবে। অন্যদিকে সমালোচকরা বলেন, এটি নারীর পরিচয় ও স্বাধীনতাকে ‘প্রতীকী’ ও ‘বস্তুরূপে’ তুলে ধরে।

তবু নুয়ের সমাজে এই রীতি একটি স্বীকৃত ও সম্মানজনক পদ্ধতি, যেখানে বাস্তবের অনুপস্থিতিতেও বিয়ের কাঠামো অটুট থাকে।