বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আলোচিত ৯ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদের নাটকীয় পলায়ন ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থাতেই নৌকা থেকে লাফিয়ে তিনি পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কাগাপাশা ইউনিয়নের বাতাকান্দী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বানিয়াচং থানা পুলিশ আব্দুল মজিদকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ সদস্যরা নৌকাযোগে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়, বাড়ির সামনের একটি খালে পৌঁছালে তিনি হঠাৎ নৌকা থেকে লাফিয়ে পড়েন। হাতে তখনো ছিল পুলিশের হাতকড়া। এরপরই তিনি গা ঢাকা দেন।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর বানিয়াচং থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি গ্রাম ঘেরাও করে তল্লাশি অভিযান চালায়। তবে দীর্ঘ সময় অভিযান চালালেও পুলিশ তাকে খুঁজে পায়নি।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার পথে সে হঠাৎ পানিতে লাফিয়ে পড়ে। এরপর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। সে জীবিত না মৃত তাও নিশ্চিত নয়। পুলিশ সর্বাত্মকভাবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।”
এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই পুলিশের গাফিলতির প্রশ্ন তুলেছেন। একজন হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পরও কীভাবে সে পুলিশের উপস্থিতিতে পালিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট বানিয়াচং থানার সামনে জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৯ জন নিহত হন। ঘটনাটি তখন সারাদেশে আলোড়ন তুলেছিল। সেই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আব্দুল মজিদ ছিলেন অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মজিদের উপস্থিতি নিশ্চিত ছিল বলে ভুক্তভোগীদের পরিবার থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তবে এতদিন ধরে তিনি গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। সোমবার গ্রেপ্তারের পর তার এভাবে পালিয়ে যাওয়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।










