বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ব্যবসায়িক জগতের ব্যস্ততা, ফাইলের স্তূপ আর মিটিংয়ের ভিড়েও মানুষের মনে এক টুকরো শৈশব বেঁচে থাকে। সেই শৈশব যখন প্রিয় কোনো মানুষের বিদায়ে নাড়া দেয়, তখন বড় বড় কর্পোরেট ব্যক্তিত্বের হৃদয়ও আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। ঠিক এমনটাই দেখা গেল দেশের কৃষি ও পোল্ট্রি খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রো গ্রুপের কর্ণধার এবং চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক রাকিবুর রহমান টুটুলের কণ্ঠে।
গতকাল ১১ই জানুয়ারি ২০২৬, তাঁর ছোট ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা অধ্যাপক ড. শামসুদ্দোহা (শিপুল) উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। ভাইয়ের এই বিদেশযাত্রায় সফল ব্যবসায়ী টুটুল সাহেবের মনে ভর করেছে এক বিষণ্ণ মধুর স্মৃতিচারণ।
স্মৃতির পাতায় দুই ভাই
টুটুল সাহেব তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় তুলে ধরেছেন তাঁদের বেড়ে ওঠার গল্প। কেবল ব্যবসায়ী পরিচয় নয়, একজন বড় ভাই হিসেবে তাঁর স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল—ক্রিকেট, ফুটবল, দাবা, মার্বেল আর ডান্ডাগুলি খেলার দিনগুলো। নবিসউদ্দিন স্যারের কাছে একসাথে পড়তে যাওয়া কিংবা টেলিভিশনে রেসলিং দেখা—সবকিছুতেই তাঁরা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য।
শিপুলের সংগীতপ্রেমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ওর তো দুই আলমারি ভরা ক্যাসেট ছিল! সেই গানগুলো এখনো কানে বাজে।” এমনকি টুটুল সাহেব যখন তাঁর পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্মের প্রাথমিক সংগ্রাম শুরু করেন, তখন ছোট ভাই শিপুলই ছিলেন তাঁর অন্যতম সহযোগী।
সাফল্য ও বিচ্ছেদ
আজ বড় ভাই দেশের কৃষি বিপ্লবের অন্যতম নায়ক, আর ছোট ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী অধ্যাপক। কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততা তাঁদের আলাদা করলেও হৃদয়ের টান কখনো কমেনি। টুটুল সাহেব লিখেছেন, “বাইরে থেকে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও মনটা ভীষণ খারাপ, ভিতরটা কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগছে।”
তবে এই দূরত্ব যে কেবল ভৌগোলিক, তা স্পষ্ট হয়েছে তাঁর লেখায়। প্রতিদিন অন্তত একবার কথা বলা এবং নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁরা এই বিরহের কষ্টকে জয় করার চেষ্টা করছেন।
শুভকামনা সাত সমুদ্র পাড়ে
ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে পরিচিত রাকিবুর রহমান টুটুল তাঁর ভাইয়ের জন্য দোয়া চেয়ে লিখেছেন, “পৃথিবীর যেখানেই থাকো না কেন, ছোট ভাই, আল্লাহ তোমাকে সবসময় সুস্থ রাখুন, নিরাপদ রাখুন, সাফল্যে ভরিয়ে দিন।”
ভাইয়ের প্রতি এক বড় ভাইয়ের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দোয়ার গল্পটি আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককেই স্পর্শ করেছে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, সাফল্য বা সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে পরিবার এবং রক্তের বন্ধনই মানুষের আসল ঠিকানা।