Home আন্তর্জাতিক বেলজিয়াম টু চীন: এক স্ত্রী কবুতরের দাম যখন ৫ কোটি টাকা!

বেলজিয়াম টু চীন: এক স্ত্রী কবুতরের দাম যখন ৫ কোটি টাকা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বেলজিয়ামের বিখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান PIPA (Pigeon Paradise)-এর মাধ্যমে কবুতর জগতের নতুন সেনসেশন ‘নিউ কিম ৩’ (New Kim 3) বিক্রি হয়েছে নিলামে।

  • কবুতরের নাম: নিউ কিম ৩ (New Kim 3)।
  • লিঙ্গ: স্ত্রী কবুতর (Hen)।
  • নিলামকারী প্রতিষ্ঠান: PIPA (বেলজিয়াম)।
  • নিলামের চূড়ান্ত তারিখ: ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (রবিবার)।
  • বিক্রয় মূল্য: ৩,৯৮,০০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা)।
  • ক্রেতা: চীনের একজন নামকরা শিল্পপতি এবং কবুতর সংগ্রাহক।

পটভূমি ও বংশমর্যাদা: ‘নিউ কিম ৩’ মূলত বেলজিয়ামের বিখ্যাত ব্রিডার কার্ট ওয়াকার (Hok Van De Wouwer)-এর খামারের কবুতর। এই বংশের কবুতরগুলো তাদের অবিশ্বাস্য দ্রুতগতি এবং দিকনির্ণয় ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এর আগে ২০২০ সালে ‘নিউ কিম’ নামক কবুতরটি ১.৬ মিলিয়ন ইউরোতে বিক্রি হয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। ‘নিউ কিম ৩’ সেই একই রক্তধারার (Bloodline) হওয়ায় নিলামের শুরু থেকেই এটি নিয়ে টানটান উত্তেজনা ছিল।

নিলামের রোমাঞ্চ: গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অনলাইনে এই নিলাম শুরু হয়। শুরুর দিকে দাম ১ লক্ষ ইউরোর আশেপাশে থাকলেও, শেষ দিন অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকেলে চীন এবং তাইওয়ানের দুই বড় ব্যবসায়ীর মধ্যে দরাদরি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ইউরোতে চীনের একজন সংগ্রাহক ডাকটি জিতে নেন।

চীন ও তাইওয়ানের আধিপত্য: বর্তমানে আন্তর্জাতিক কবুতর বাজারে চীন এবং তাইওয়ান সবচেয়ে বড় শক্তির নাম। তারা মূলত এই ধরনের উচ্চমূল্যের কবুতর কেনে ‘ব্রিডিং’ বা বংশবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। ‘নিউ কিম ৩’ থেকে যে বাচ্চাগুলো হবে, সেগুলোকে পরবর্তীতে বিশাল অংকের টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে অথবা রেসিং প্রতিযোগিতায় বড় অংকের পুরস্কার জেতার জন্য ব্যবহার করা হবে।

কেন এত দাম?

১. বংশগতি: এটি ‘গোল্ডেন কিম’ ও ‘নিউ কিম’ বংশের সরাসরি উত্তরসূরি। ২. রেসিং রেকর্ড: অল্প বয়সেই এটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ট ও মিডল ডিস্ট্যান্স রেসে প্রথম সারিতে ছিল। ৩. প্রজনন মূল্য: সংগ্রাহকদের মতে, এই স্ত্রী কবুতরটি থেকে আগামী কয়েক বছরে কয়েক ডজন বিশ্বসেরা রেসিং পিজিয়ন তৈরি করা সম্ভব।

এই নিলামটি আবারও প্রমাণ করল যে, ইউরোপের কবুতর পালন এখন কেবল শখ নয়, বরং কোটি কোটি টাকার একটি বৈশ্বিক ব্যবসায়িক শিল্প।