জ্বালানি তেলের রেকর্ড বৃদ্ধি: গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম যেখানে গড়ে ৬৩.৮৫ ডলার ছিল, এপ্রিলের শুরুতে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে এটি ১২০ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছে।
ভোজ্য তেল ও খাদ্যশস্য: যুদ্ধের কারণে সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গম, ভুট্টা এবং সয়াবিন তেলের দাম বিশ্ববাজারে ১৫% থেকে ২৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এলএনজি ও প্রাকৃতিক গ্যাস: এশীয় বাজারে স্পট এলএনজির দাম গত দুই মাসে প্রায় ১৪০% বেড়েছে। কাতার থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এর প্রধান কারণ।
সার ও কৃষি উপকরণ: প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ায় ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। গত দুই মাসে সারের বৈশ্বিক সূচক ২৬.২% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
পরিবহন খরচ: জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাবে জাহাজ ভাড়া ও বিমান ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার ফলে প্রতিটি আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০% থেকে ১৫% খরচ চাপছে।
পণ্যমূল্য তুলনা: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বনাম এপ্রিল ২০২৬
পণ্যের নাম
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (গড় দর)
এপ্রিল ২০২৬ (বর্তমান দর)
বৃদ্ধির হার (প্রায়)
ক্রুড অয়েল (প্রতি ব্যারেল)
$৬৩.৮৫
$১০৫.০০+
৬০%
এলএনজি (স্পট প্রাইস – এশিয়া)
স্বাভাবিক সূচক
১৪০% বৃদ্ধি
১৪০%
সার (গ্লোবাল ইনডেক্স)
বেস লেভেল
২৬.২% বৃদ্ধি
২৬%
খাদ্যশস্য (গম/ভুট্টা)
স্থিতিশীল
২০% বৃদ্ধি
২০%
প্রাকৃতিক গ্যাস (ইউরোপ-TTF)
€৩০/MWh
€৬০/MWh
১০০%
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে সামনের দিনগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন।