Home অন্যান্য অরণ্যঘেরা রহস্য: ত্রিপুরার এক চা বাগানের আড়ালে

অরণ্যঘেরা রহস্য: ত্রিপুরার এক চা বাগানের আড়ালে

ত্রিপুরার গহীন অরণ্য আর পাহাড়ের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা এক চা বাগান ‘নীলকণ্ঠ এস্টেট’। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এই বাগানে কয়েক দশক ধরে প্রচলিত আছে এক অদ্ভুত কিংবদন্তি। দশ পর্বের এই রহস্যময় ধারাবাহিকের শুরুটা হবে এক আগন্তুককে ঘিরে।
একটি পরিত্যক্ত বাংলো, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি পথ আর চা শ্রমিকদের মুখে মুখে ফেরা কিছু ভয়ের গল্প—সব মিলিয়ে তৈরি হবে এক রোমাঞ্চকর প্রেক্ষাপট। নিচে এই ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস

নীলকণ্ঠের রহস্য: প্রথম পর্ব

ডি এন রাকেশ 

গোধূলির আলো তখন নিভে এসেছে। ত্রিপুরার কৈলাশহরের শান্ত পরিবেশ ভেদ করে এগিয়ে চলেছে একটি নীল রঙের জীপ। চারপাশে ঢেউ খেলানো পাহাড়ের ওপর সারি সারি চা গাছের সবুজ গালিচা, তার মাঝে এঁকেবেঁকে যাওয়া মাটির রাস্তা। অনির্বাণ জানলার বাইরে চেয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখছিল। সে একজন তরুণ লেখক, কলকাতার কোলাহল থেকে দূরে ত্রিপুরার এই চা বাগানে এসেছে তার নতুন উপন্যাসের অনুপ্রেরণা খুঁজতে।
“আর কতদূর রতন কাকু?” জীপের চালক, রতন কাকার দিকে ফিরে অনির্বাণ জিজ্ঞেস করল।
রতন কাকা একমনে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার মুখটা কেমন যেন গম্ভীর। “আর মিনিট পাঁচেক, বাবা।” তার কণ্ঠস্বর ভারী। “ওই যে সামনে দেখা যাচ্ছে।”
জীপটা একটা পুরনো, লোহার গেট পেরিয়ে নীলকণ্ঠ চা বাগানে প্রবেশ করল। অনির্বাণের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। গেটের ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল, ব্রিটিশ আমলের বাংলো। একসময় হয়তো এর রূপ ঝলমল করত, কিন্তু এখন অযত্নে আর অবহেলায় এর গা থেকে আস্তরণ খসে পড়েছে। চারপাশে গাছপালাও কেমন যেন ভুতুড়ে রূপ ধারণ করেছে। বাংলোর পরিবেশটাই কেমন যেন থমথমে।
রতন কাকা বাংলোর সামনে গাড়ি থামালেন। অনির্বাণ ব্যাগপত্র নিয়ে নামার সময় লক্ষ্য করল, বাগানের শ্রমিকরা দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকেই দেখছে। তাদের চোখে অদ্ভুত এক ভয়ের ছাপ। অনির্বাণের কৌতূহল বাড়তে লাগল।
“এটাই তোমার থাকার জায়গা, বাবা,” রতন কাকা বাংলোর দিকে ইঙ্গিত করে বললেন। “বেশ পুরনো হলেও, আমি সব পরিষ্কার করে রেখেছি।”
অনির্বাণ বাংলোর ভেতর প্রবেশ করল। ভেতরে পুরনো ফার্নিচার, ধুলোবালি আর অন্ধকারে মাখামাখি। এক ধরণের স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ নাকে লাগল। রতন কাকা মোমবাতি জ্বালিয়ে অনির্বাণকে তার ঘর দেখিয়ে দিলেন। ঘরের জানলা খুলে দিয়ে অনির্বাণ বাইরে তাকাল। বাগানের গভীরে, পাহাড়ের ওপাশে কুয়াশা জমছে। তার মনে হতে লাগল, এই বাংলো আর এই বাগানের আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কিছু, যা সে কখনো কল্পনাও করতে পারে না।
“রতন কাকু, এই বাগান সম্পর্কে কি কি রহস্য আছে?” অনির্বাণ জানতে চাইল।
রতন কাকা একটু ইতস্তত করলেন। “রহস্য? রহস্য অনেক আছে, বাবা।” তার গলাটা কেমন যেন কেঁপে উঠল। “কিন্তু কিছু রহস্য না জানাই ভালো।”
সেদিনের পর থেকেই অনির্বাণের মধ্যে নীলকণ্ঠ চা বাগানের রহস্য উদঘাটনের নেশা চেপে ধরল। বাগানের শ্রমিকদের সাথে কথা বলে সে জানতে পারল, নীলকণ্ঠের মালিক, রাজীব বাবু, কয়েক বছর আগে বাগানের গভীরে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। কেউ বলে সে পাচারকারীদের হাতে মারা গেছে, কেউ বলে সে পাগল হয়ে গিয়েছিল, আবার কেউ কেউ মনে করে তাকে বাগানের “পাহাড় দেবতা” তুলে নিয়ে গেছে। শ্রমিকরা সবাই উত্তর দিকের জঙ্গলের দিকে যেতে ভয় পায়। তারা বলে, সেই জঙ্গলের গভীর থেকে অদ্ভুত সব শব্দ শোনা যায়।
অনির্বাণ বুঝতে পারল, তার উপন্যাস লিখতে সে যা খুঁজছিল, তার থেকে অনেক বেশি কিছু সে এই নীলকণ্ঠ চা বাগানে খুঁজে পাবে। রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে অনির্বাণ জানতে পারবে কি কি লোমহর্ষক তথ্য?
তার পরবর্তী অভিযান জানার জন্য দেখুন পরবর্তী পর্ব…