আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য নিলামের আগেই হারিয়ে গেছে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের এক অমূল্য অলঙ্কার। সোনার তৈরি সেই অলঙ্কারটিতে সযত্নে বসানো ছিল ১,৬০০ টিরও বেশি হীরকখণ্ড। ফরাসি সাম্রাজ্যের প্রতীক হিসেবে নেপোলিয়নের ব্যবহৃত এ ঐতিহাসিক গহনা হারিয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্রান্সের বিখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান ওসেনাট জানিয়েছে, সম্রাট নেপোলিয়নের এই গহনা তাদের কাছে জমা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই সেটি নিখোঁজ হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ডাকযোগে পাঠানোর সময় বা সংরক্ষণের কোনো পর্যায়ে চুরি হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ওসেনাটের মুখপাত্র জানান, অলঙ্কারটি ছিল নেপোলিয়নের ব্যক্তিগত সংগ্রহের একটি অংশ, যা ফরাসি রাজকীয় কারুশিল্পের অনন্য নিদর্শন। তিনি বলেন, “এই গহনাটি শুধু ঐতিহাসিক নয়, শিল্পমানের দিক থেকেও অমূল্য। এটি হারিয়ে যাওয়া মানে ইউরোপীয় ইতিহাসের একটি অংশ হারানো।”
প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, তারা পোস্টাল রুট, কুরিয়ার ট্র্যাক এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পেশাদার চোরচক্র এই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এই গহনাটি আসন্ন সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য “ইম্পেরিয়াল ট্রেজার” শিরোনামের নিলামে তোলা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে নেপোলিয়নের ব্যবহৃত আরও কয়েকটি সামগ্রী প্রদর্শিত হওয়ার কথা ছিল, যেমন তার সামরিক তলোয়ার, টুপিসহ যুদ্ধের সময়ের ব্যক্তিগত দ্রব্য। কিন্তু এই গহনা হারানোর ঘটনায় পুরো আয়োজনের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “নেপোলিয়নের ঐতিহ্য শুধু ফরাসি নয়, এটি ইউরোপীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা আশা করছি পুলিশ দ্রুত এই অমূল্য সম্পদ উদ্ধার করতে পারবে।”
নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ব্যক্তিগত অলঙ্কার বা সামগ্রী এর আগে নিলামে উঠলে তা কোটি কোটি ইউরো দামে বিক্রি হয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অলঙ্কারটি কালোবাজারে বিপুল মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে চুরি করা হতে পারে।
ইতিহাসবিদরা বলছেন, এই অলঙ্কারটি নেপোলিয়নের দ্বিতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার সময়ের স্মারক। এতে থাকা প্রতিটি হীরা ও সোনার খোদাইয়ে ফরাসি রাজকীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল। গহনার শিল্পমান এবং ঐতিহাসিক মূল্য একে শুধু একটি অলঙ্কার নয়, বরং এক টুকরো ইতিহাসে পরিণত করেছে।
ফরাসি গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ঘটনাটির পর নিলাম কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক গহনা সামগ্রী নতুনভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে।










