Home আন্তর্জাতিক নেসলে ও ড্যানোনের শিশুখাদ্যে বিষক্রিয়া

নেসলে ও ড্যানোনের শিশুখাদ্যে বিষক্রিয়া

 যুক্তরাজ্যে ৩৬ শিশু আক্রান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাজ্য: গত মাসে বাজার থেকে তুলে নেওয়া নেসলে (Nestle) এবং ড্যানোন (Danone)-এর নির্দিষ্ট কিছু শিশুখাদ্য (বেবি ফর্মুলা) খেয়ে যুক্তরাজ্যে অন্তত ৩৬টি শিশু বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (UKHSA) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আক্রান্তের পরিসংখ্যান
সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ জন ইংল্যান্ডের, ৭ জন স্কটল্যান্ডের, ৩ জন ওয়েলসের এবং ১ জন উত্তর আয়ারল্যান্ডের। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে ‘সেরুলাইড টক্সিন’ (cereulide toxin)-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা সাধারণত বমি ও পেটে ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দূষণের উৎস
তদন্তে দেখা গেছে, শিশুখাদ্যে ব্যবহৃত আরাকিডোনিক অ্যাসিড (ARA) অয়েল নামক একটি উপাদান থেকেই এই বিষক্রিয়া ছড়িয়েছে। একটি সাধারণ তৃতীয় পক্ষ সরবরাহকারীর কাছ থেকে এই উপাদানটি নেসলে ও ড্যানোন উভয় কোম্পানিই সংগ্রহ করেছিল।
প্রত্যাহারকৃত পণ্যসমূহ
নেসলে (SMA ব্র্যান্ড): এস এম এ অ্যাডভান্সড ফলো-অন মিল্ক, অ্যান্টি রিফ্লাক্স, আলফামিনো, ফার্স্ট ইনফ্যান্ট মিল্ক, লিটল স্টেপস, কমফোর্ট এবং ল্যাকটোজ ফ্রি। বিশেষ করে উত্তর আয়ারল্যান্ডে বাজারজাতকৃত ৮০০ গ্রামের ‘এসএমএ ফার্স্ট ইনফ্যান্ট মিল্ক’ (মেয়াদ ২০২৭) নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
ড্যানোন (Aptamil ব্র্যান্ড): অ্যাপ্টামিল ফার্স্ট ইনফ্যান্ট ফর্মুলার একটি নির্দিষ্ট ব্যাচ (৮০০ গ্রাম, মেয়াদ ৩১-১০-২০২৬) বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
টক্সিনের প্রভাব ও লক্ষণ ‘ব্যাসিলাস সেরিয়াস’ নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে এই সেরুলাইড টক্সিন তৈরি হয়। এটি গ্রহণের ১৫ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
  • তীব্র বমি ও পেট কামড়ানো।
  • ডায়রিয়া।
  • বিরল ক্ষেত্রে লিভার বা কিডনি অকেজো হওয়ার ঝুঁকি।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা
ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি (FSA) অভিভাবকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি কারও কাছে এই নির্দিষ্ট ব্যাচের পণ্য থাকে, তবে তা যেন শিশুকে খাওয়ানো না হয়। যদি শিশুটি ইতিমধ্যে এটি খেয়ে থাকে এবং অসুস্থ বোধ করে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। তবে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ফর্মুলা পরিবর্তনের আগে অবশ্যই ফার্মাসিস্ট বা ডাক্তারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নেসলে ও ড্যানোন উভয় কোম্পানিই জানিয়েছে যে তারা জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আক্রান্ত ব্যাচগুলো বাজার থেকে সরিয়ে ফেলছে।