বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোড করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও সময়সূচী
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রাশিয়ান প্রকৌশল সংস্থা ‘রোসাটম’-এর তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সমাপ্তির পথে রয়েছে। উপদেষ্টার পরিদর্শনকালে আলোচনার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি সম্ভাব্য সময়সূচী পাওয়া গেছে:
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (শেষ সপ্তাহ): ইউনিট-১ এ পারমাণবিক জ্বালানি বা ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হবে।
মার্চ ২০২৬ (শেষ সপ্তাহ): পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
পরবর্তী ধাপ: পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে ১,২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই ইউনিট থেকে প্রায় ১,১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত যোগ করা হবে।
উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কেবল একটি মেগা প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের একটি মাইলফলক। এটি দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং স্বল্প খরচে দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া যাবে, যা দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতির সঞ্চার করবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সকল নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা বেষ্টনী মেনেই প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন কেবল ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে দেশের প্রথম এই ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার।