বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: ভারতের হিমাচল প্রদেশের চম্বা উপত্যকার হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় যেখানে প্রাণের স্পন্দন থমকে যাওয়ার কথা, সেখানে এক অবুঝ প্রাণীর আনুগত্য ও ভালোবাসার অবিশ্বাস্য নিদর্শন দেখল বিশ্ব। ১৩ বছরের পীযূষ কুমার ও ১৯ বছরের বিকশিত রানা—দুই ভাইয়ের নিথর দেহ আগলে টানা চার দিন বরফে দাঁড়িয়ে রইল তাদের প্রিয় পিটবুল।
ঘটনার পটভূমি
সম্প্রতি দুই তুতো ভাই চম্বা উপত্যকায় ট্রেকিংয়ে বের হয়েছিলেন। সঙ্গী ছিল পীযূষের অতি আদরের পোষ্য পিটবুলটি। কিন্তু পাহাড়ের দুর্গম পথে আচমকা শুরু হওয়া তুষারঝড় সবকিছু ওলটপালট করে দেয়। প্রবল তুষারপাতের কারণে তারা নিচে নামার রাস্তা হারিয়ে ফেলে এবং কোনো সাহায্য ছাড়াই আটকা পড়ে পাহাড়ের চূড়ায়।
আনুগত্যের লড়াই: ৪ দিন ও ৪ রাত
প্রায় ৪ দিন পর যখন উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারে করে সেখানে পৌঁছায়, তখন চারদিকে কেবল ধু ধু সাদা বরফ আর হিমাঙ্কের অনেক নিচের তাপমাত্রা। উদ্ধারকারীরা দেখেন, প্রবল শীতে কাঁপতে কাঁপতে পাহাড়ের ওপর ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে কুকুরটি। পাশে পড়ে আছে তার দুই মালিকের হিমশীতল দেহ।
উদ্ধারকারীদের জন্য দেহ উদ্ধার করা সহজ ছিল না। শোকাতুর ও রক্ষাকর্তার ভূমিকায় থাকা কুকুরটি কাউকে লাশের কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছিল না। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর কুকুরটির মুখে মুখবন্ধ পরিয়ে সেটিকে শান্ত করা হয় এবং দুই ভাইয়ের দেহ উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল
এই ঘটনার একটি ভিডিও বর্তমানে ইন্টারনেটে ভাইরাল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অসহ্য ঠান্ডায় কুকুরটি কাঁপছে, কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও সে তার মালিকের দেহ ছেড়ে অন্য কোথাও আশ্রয়ের সন্ধানে যায়নি। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এই পশুর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে চোখে জল নেটিজেনদের।
“মানুষের চেয়েও হয়তো বেশি বিশ্বস্ত এই অবুঝ প্রাণীটি। প্রকৃতির রুদ্ররূপের মাঝে এটিই ছিল ভালোবাসার শেষ চিহ্ন।” — একজন উদ্ধারকারীর মন্তব্য।
https://twitter.com/i/status/2016032004400398661










