সুস্থ থাকতে যা অবশ্যই করবেন
হেলথ ডেস্ক: পিরিয়ড চলাকালীন ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বা হাইজিন বজায় রাখা কেবল আরামদায়ক অনুভূতির জন্য নয়, বরং এটি গুরুতর ইনফেকশন থেকে বাঁচার প্রধান উপায়। অনেক সময় অসচেতনতা বা ভুল অভ্যাসের কারণে ইউটিআই (UTI) এর মতো জটিল সমস্যা দেখা দেয়। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি:
১. প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তনে অবহেলা নয়
একই প্যাড বা ট্যাম্পন দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে সেখানে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করে। এর ফলে ত্বকে র্যাশ, চুলকানি এবং ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস হতে পারে।
সতর্কতা: প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা অন্তর প্যাড বা ট্যাম্পন বদলে ফেলুন, রক্তপাতের পরিমাণ কম হলেও।
২. সুগন্ধিযুক্ত প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলুন
পিরিয়ডের রক্তের স্বাভাবিক গন্ধ ঢাকতে অনেকেই সুগন্ধিযুক্ত প্যাড বা কেমিক্যালযুক্ত স্প্রে ব্যবহার করেন। এসব পণ্যে থাকা কৃত্রিম রাসায়নিক গোপনাঙ্গের পিএইচ (pH) ভারসাম্য নষ্ট করে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
৩. হাত ধোয়ার অভ্যাস
প্যাড বা ট্যাম্পন স্পর্শ করার আগে এবং পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক। অপরিষ্কার হাতে হাইজিন প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে সরাসরি জরায়ুমুখে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৪. সঠিক অন্তর্বাস ও পরিচ্ছন্নতা
স্নান: পিরিয়ডের সময় নিয়মিত স্নান করা এবং শরীর পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
পোশাক: অতিরিক্ত আঁটোসাঁটো অন্তর্বাস এড়িয়ে চলুন। সুতির আরামদায়ক অন্তর্বাস ব্যবহার করলে বাতাস চলাচল ঠিক থাকে এবং ঘাম বা আর্দ্রতা জমে ইনফেকশন হওয়ার ভয় থাকে না।
৫. মেনস্ট্রুয়াল কাপের সুরক্ষা
আপনি যদি মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করেন, তবে প্রতিটি সাইকেল শুরুর আগে এবং শেষে সেটি গরম জলে ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিন। ব্যবহারের মাঝেও পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
৬. পিরিয়ড ট্র্যাকিং ও হাইড্রেশন
আপনার পিরিয়ড শুরুর এবং শেষের তারিখ লিখে রাখুন। এতে হরমোনজনিত কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে দ্রুত ধরা পড়বে।
পর্যাপ্ত জল পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে পেশির টান (Cramps) কম হয় এবং ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস বা অস্বস্তি দূর হয়।
মনে রাখবেন: পিরিয়ড সংক্রান্ত যেকোনো অস্বাভাবিক ব্যথা বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এ ধরনের আরও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক টিপস পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্ট করে আমাদের জানান।










