কাঁচকে ‘হীরা’ আর কাগজকে ‘টাকা’
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, যশোর: কথায় আছে, “চোরের ওপর বাটপারি”। কিন্তু যশোরে যা ঘটলো, তাকে বলা যেতে পারে ‘প্রতারকের ওপর মহাপ্রতারণা’। কেউ কাঁচকে হীরা বলে গছিয়ে দিতে চেয়েছেন, আবার কেউ কাগজের বান্ডিলকে টাকা বানিয়ে সেই হীরা কিনতে এসেছেন! তবে শেষ রক্ষা হয়নি; একে অপরকে ঠকাতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এক নারীসহ তিন প্রতারক।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টা। যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর প্রাইমারি স্কুল মোড়ে হঠাৎ এক নারীর চিৎকার— “ছিনতাই, ছিনতাই!” পেছনে দুই যুবক দৌড়াচ্ছেন। চিৎকার শুনে স্থানীয় রিকশাচালক রাকিব হোসেন ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ধাওয়া করে ওই দুই যুবকসহ নারীকেও আটকে ফেলেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জানা যায়, ছিনতাই নয়, বরং এটি ছিল এক অভিনব ‘প্রতারণা যুদ্ধ’।
পুলিশি তদন্ত ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এই রোমহর্ষক ও হাস্যকর তথ্য:
পক্ষের নাম ‘মৌসুমী’: ঝুমঝুমপুর এলাকার মিতু আক্তার মৌসুমী ওরফে মনি (২৫) একটি কাঠের বাক্সে সাধারণ কিছু কাঁচের টুকরো সাজিয়ে সেগুলোকে ‘দামি ডায়মন্ড’ হিসেবে বিক্রির ফাঁদ পেতেছিলেন।
পক্ষের নাম ‘তামিম ও মাসুদ’: অন্যদিকে শেখহাটির তামিম আহমেদ বিল্লাল (৩৮) ও মাসুদ রানা (৩৭) সেই ডায়মন্ড কিনতে এসেছিলেন। তবে তারা দাম পরিশোধ করতে এনেছিলেন কাগজের বান্ডিল, যা দেখতে হুবহু টাকার মতো!
অর্থাৎ, এক পক্ষ নকল হীরা দিয়ে আসল টাকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল, আর অন্য পক্ষ নকল টাকা দিয়ে সেই হীরা হাতানোর ধান্দায় ছিল। লেনদেনের এক পর্যায়ে দুই পক্ষই যখন বুঝতে পারে কেউ কাউকে আসল জিনিস দিচ্ছে না, তখনই শুরু হয় হট্টগোল ও নাটকীয়তা।
পুলিশের অভিযান ও মামলা: খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চানপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করেন। তল্লাশি চালিয়ে মৌসুমীর কাছ থেকে সেই কাগজের বান্ডিল এবং দুই যুবকের কাছ থেকে কথিত হীরার বাক্সটি উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেগুলো শুধুই সাধারণ কাঁচ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এই তিন ‘স্মার্ট’ প্রতারককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এলাকায় এখন একটাই আলোচনা— ঠক বাছতে গিয়ে যেন সত্যিই গ্রাম উজাড় হওয়ার দশা!
এ ধরনের আরও খবরের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মন্তব্য জানান।










