বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। একই সঙ্গে হাদির মৃত্যু ঘিরে দেশবাসীকে কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিতে এবং ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এ ঘোষণা দেন। ভাষণে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর বেঁচে নেই। কিছুক্ষণ আগে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান টেলিফোনে তাকে এ হৃদয়বিদারক সংবাদ জানান।
ড. ইউনুস বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এই অমর সৈনিককে মহান আল্লাহ শহিদ হিসেবে কবুল করুন। তিনি হাদির অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তার প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি হাদির রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, শহিদ শরিফ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে। তার অকাল মৃত্যুতে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার বাদ জুম্মা দেশের প্রতিটি মসজিদে শহিদ ওসমান হাদির রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন থাকবে।
ভাষণে সিঙ্গাপুর সরকারকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, হাদির চিকিৎসায় তারা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান, যিনি একজন চিকিৎসকও, তিনি নিজে হাদির পরিচর্যা করেছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসার খোঁজখবর দিয়েছেন।
ড. ইউনুস বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।
তিনি বলেন, বিপ্লবী রক্তে উজ্জীবিত এই তরুণ নেতা ওসমান হাদি ছিলেন প্রতিবাদের অনন্য প্রতীক। তার কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি দেশপ্রেম, ধৈর্য ও দৃঢ়তার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে এবং রাষ্ট্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন পরাজিত শক্তি ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের শত্রু। তার কণ্ঠ স্তব্ধ করে বিপ্লবীদের ভয় দেখানোর অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে। ভয়, সন্ত্রাস কিংবা রক্তপাতের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।
তিনি বলেন, দেশ এখন গণতান্ত্রিক উত্তরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শহিদ হাদি ছিলেন এই প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা ছিল তার। তবে তার সেই ইচ্ছা অপূর্ণ রয়ে গেল। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায় আজ সমগ্র জাতির কাঁধে ন্যস্ত বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ভাষণের শেষাংশে ড. ইউনুস বলেন, এই শোকের মুহূর্তে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির আদর্শ ও ত্যাগকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। অপপ্রচার ও গুজবে কান না দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়াই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।










