Home First Lead প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১৬ জন, লড়াইয়ে ফিরলেন হেভিওয়েটরা

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১৬ জন, লড়াইয়ে ফিরলেন হেভিওয়েটরা

ইসির আপিল শুনানি শেষ

বিজেনসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) টানা নয় দিনের আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে মোট ৪১৬ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
শুনানির শেষ দিনে গতকাল রবিবার ২০ জন প্রার্থী সবুজ সংকেত পেলেও, ভাগ্য সহায় হয়নি বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর।
প্রাথমিক বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা যে ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন, আপিল শুনানি শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি (৪১৬ জন) বৈধতা পেলেন। ইসির এই উদার হস্তক্ষেপে ভোটের মাঠে প্রার্থীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের কড়াকড়ি শিথিল করার বিষয়টি অনেক প্রার্থীর পথ সুগম করেছে।
বিএনপির মিশ্র ভাগ্য: মিন্টু টিকলেও বাদ ২ জন
শুনানির শেষ দিনে বিএনপির জন্য মিশ্র অভিজ্ঞতা ছিল। ফেনী-৩ আসনে দলটির হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে ইসি। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উঠলেও সময়মতো নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ দিতে পারায় তিনি ভোটে লড়ার অনুমতি পান। এছাড়া চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রয়েছে।
তবে বড় ধাক্কা এসেছে চট্টগ্রাম-২ ও কুমিল্লা-১০ আসনে। ঋণখেলাপির দায়ে সারোয়ার আলমগীর এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গফুর ভূঁইয়া শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
‘নিরপেক্ষতার’ দাবি সিইসির
শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন দাবি করেছেন, পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তিনি বলেন:

“আমরা আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এমনকি ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রেও আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় মনে কষ্ট নিয়েও ছাড় দিতে হয়েছে।”

তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
 ভোটের মাঠে কী প্রভাব পড়বে?
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চেষ্টা: ৪১৬ জন প্রার্থীকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ইসি বার্তা দিতে চাচ্ছে যে তারা একটি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নমনীয়তা ছোট দল ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাসম্পন্ন নেতাদের উৎসাহিত করবে।
. বিএনপির অবস্থান: বিএনপির ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে অনেকেরই মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল মূলত দলীয় প্রত্যয়নপত্রের অভাবে। তবে আপিল শেষে দলটির একটি বড় অংশ লড়াইয়ে ফিরতে পারায় নির্বাচনী মেরুকরণ নতুন মাত্রা পাবে।
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব: ইসি এবার এই দুটি বিষয়ে কঠোরতা দেখিয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্যে বোঝা গেছে, আইনি মারপ্যাঁচে অনেক ঋণখেলাপিও পার পেয়ে গেছেন, যা নিয়ে জনমনে সমালোচনা থাকতে পারে।
২০ জানুয়ারি: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
২১ জানুয়ারি: চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ।
২২ জানুয়ারি: আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু।
১২ ফেব্রুয়ারি: ভোটগ্রহণ (সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০)।