Home আন্তর্জাতিক ভেনেজুয়েলায় মার্কিন ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’: সস্ত্রীক আটক প্রেসিডেন্ট মাদুরো!

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’: সস্ত্রীক আটক প্রেসিডেন্ট মাদুরো!

প্রেসিডেন্ট মাদুরো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
 লাতিন আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় মোড়! ভেনেজুয়েলায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে মার্কিন বিশেষ বাহিনী। শনিবার মধ্যরাতে রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও বিস্ফোরণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেন।
এক নজরে মূল ঘটনা:
আকস্মিক হামলা: শনিবার রাত ২টার দিকে রাজধানী কারাকাসের আকাশ কেঁপে ওঠে একের পর এক বিস্ফোরণে। অন্তত ৭টি বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ডেল্টা ফোর্সের অ্যাকশন: মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই বিশেষ অভিযানে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চৌকস সামরিক ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’।
আটক ও স্থানান্তর: ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার বাইরে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জরুরি অবস্থা: হামলার পরপরই ভেনেজুয়েলা জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। একে “সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন” বলে নিন্দা জানানো হয়েছে।
অপারেশন ‘জাস্টিস’: ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৯০ সালে পানামা আক্রমণের পর লাতিন আমেরিকায় এটিই সবচেয়ে বড় সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নারকো-টেরোরিজম’ বা মাদক সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে আসছিল ওয়াশিংটন। মাদুরোর মাথার ওপর ৫ কোটি ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করা ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সাফল্যের সাথে ভেনেজুয়েলা এবং এর নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযান পরিচালনা করেছে। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।”
রণক্ষেত্রে কারাকাস: যা দেখছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘লা কারলোটা’ বিমানঘাঁটি এবং ‘ফুয়ের্তে টিউনা’ সামরিক সদর দপ্তরে বড় ধরনের আগুনের কুণ্ডলী দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারাকাসের আকাশে নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড়
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাশিয়া ও ইরান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাজার ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুতকারী দেশ হওয়ায় এই ঘটনার প্রভাব বিশ্ব তেলের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় কয়েক ডলার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।