Home পরিবেশ ‘ন্যানোপ্লাস্টিক’: বোতলজাত পানি ও প্লাস্টিক পাত্রে লুকিয়ে থাকা বিপদ

‘ন্যানোপ্লাস্টিক’: বোতলজাত পানি ও প্লাস্টিক পাত্রে লুকিয়ে থাকা বিপদ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাস্টিকের বোতল ও পাত্র। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য—প্লাস্টিকের বোতলে রাখা পানি এবং প্লাস্টিকের পাত্রে মাইক্রোওয়েভে গরম করা খাবার থেকে কোটি কোটি ক্ষুদ্র কণা আমাদের রক্তে ও কোষে প্রবেশ করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অদৃশ্য প্লাস্টিক কণাগুলো মানবদেহের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গবেষণায় কী উঠে এসেছে?
সম্প্রতি ‘প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস’ (PNAS)-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এক লিটার বোতলজাত পানিতে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার প্লাস্টিক কণা থাকতে পারে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই হলো ন্যানোপ্লাস্টিক।
মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিকের পার্থক্য:
মাইক্রোপ্লাস্টিক: ৫ মিলিমিটার থেকে ১ মাইক্রোমিটার সাইজের কণা।
ন্যানোপ্লাস্টিক: ১ মাইক্রোমিটারের চেয়েও ছোট (মানুষের চুলের চেয়েও ১০০০ গুণ পাতলা), যা সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে ফুসফুস, হৃদপিণ্ড এমনকি গর্ভস্থ ভ্রূণেও পৌঁছাতে সক্ষম।
প্লাস্টিক পাত্রে খাবার গরম করার ঝুঁকি
আমেরিকার নেব্রাস্কা-লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গত বছর একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। সেখানে দেখা গেছে, ‘ফুড গ্রেড’ হিসেবে স্বীকৃত প্লাস্টিক পাত্রে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে প্রতি বর্গসেন্টিমিটার থেকে প্রায় ২১০ কোটি মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ৪২০ কোটি ন্যানোপ্লাস্টিক নির্গত হতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রায় প্লাস্টিকের পলিমারগুলো ভেঙে দ্রুত খাবারে মিশে যায়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি সমূহ
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরে প্লাস্টিকের এই ক্ষুদ্র কণাগুলো জমা হওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদী কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে:
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: প্লাস্টিকের রাসায়নিক (যেমন: BPA) এন্ডোক্রাইন সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
প্রদাহ ও কোষের মৃত্যু: ন্যানোপ্লাস্টিক কোষের ভেতরে ঢুকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
হৃদরোগের ঝুঁকি: রক্তনালীতে প্লাস্টিক কণা জমা হয়ে প্লাক তৈরি করতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
পুরোপুরি প্লাস্টিক বর্জন করা কঠিন হলেও কিছু সচেতনতা ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়:
কাঁচ বা সিরামিকের ব্যবহার: মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করার সময় প্লাস্টিকের বদলে কাঁচ বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন।
প্লাস্টিকের বোতল এড়িয়ে চলা: দীর্ঘক্ষণ প্লাস্টিকের বোতলে পানি না রেখে কাঁচ বা স্টেইনলেস স্টিলের বোতল ব্যবহার করার অভ্যাস করুন।
গরম খাবার ও পানীয়: প্লাস্টিকের কাপে চা বা প্লাস্টিকের বক্সে গরম তরকারি নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যানোপ্লাস্টিকের প্রভাব সম্পর্কে আমরা কেবল জানতে শুরু করেছি। ভবিষ্যতের বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় এড়াতে এখন থেকেই প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত করা জরুরি।

নতুন সব আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান।