বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চার বছর আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থানে ফিরলেও সাধারণ মানুষের পাতের ফল এখনো ‘বিলাসী পণ্য’ হিসেবেই রয়ে গেছে। আমদানিকৃত ফলের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরোপ করা ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন (এলসি খোলার সময় পুরো টাকা আগে জমা দেয়া) এখনো বহাল থাকায় খুচরা বাজারে ফলের দাম আকাশছোঁয়া।
আকাশছোঁয়া দাম, বিপাকে ক্রেতারা: রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, দুই-তিন বছর আগের তুলনায় ফলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
কমলা: ২০২২ সালে যে কমলা ১৮০ টাকা কেজি ছিল, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকায়।
আপেল: জাতভেদে ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ২২০-২৮০ টাকা।
আঙুর: ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, আগে ছিল ৪০০-৪৫০ টাকা।
রমজানের শুরুতে ইফতারের ফল কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। ঢাকা নিবাসী ফারিয়া লিরা জানান, তিনটি কমলার দাম ২৮০ টাকা চাওয়ায় তিনি ফল না কিনে ১০০ টাকায় ১০টি খেজুর নিয়ে ফিরেছেন। পুষ্টিকর ফলের বদলে মানুষ এখন সস্তা ভাজাপোড়া খাবারের দিকে ঝুঁকছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের।
ব্যবসায়ীদের সংকট ও ‘বিলাসী’ তকমা: বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নূরুদ্দিন আহমেদ জানান, ১০০ শতাংশ ক্যাশ মার্জিনের কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ছিটকে পড়েছেন। আগে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে আংশিক অর্থ জমা দিয়ে এলসি খোলা যেত, কিন্তু এখন পুরো টাকা আটকে যাওয়ায় আমদানির পরিমাণ কমেছে এবং সরবরাহ সংকটে দাম বেড়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ফল কেন গাড়ি বা সোনার মতো বিলাসী পণ্য হবে? এটি একটি প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। ডলার পরিস্থিতি উন্নত হলেও এই বিধিনিষেধ বজায় রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মিশ্র মত
,রমজানে সামনে রেখে ফলের ওপর থেকে এলসি মার্জিন ও শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত। তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন কিছুটা সতর্ক। তাঁর মতে, রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় ঢালাওভাবে সব ছাড় না দিয়ে ধাপে ধাপে এবং যাচাই-বাছাই করে বিধিনিষেধ শিথিল করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ব্যাংকারদের একটি অংশ বলছে, ফল পচনশীল পণ্য হওয়ায় এতে ঝুঁকি বেশি। এছাড়া আমদানির আড়ালে অর্থপাচার রোধে কড়াকড়ি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন মার্চেন্টাইল ব্যাংকের এমডি মতি উল হাসান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ২০২২ সালের ডলার সংকটের সময় এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। বর্তমানে ডলার বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে। রমজান উপলক্ষে খেজুর আমদানিতে কিছুটা শিথিলতা আনা হলেও অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাজারের উন্নতি হলে এই মার্জিন তুলে নেয়া হতে পারে।