বাংলাদেশে এই বছরও (২০২৬) জনপ্রতি সদাকাতুল ফিতরের হার গত বছরের ন্যায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সভায় ২০২৬ সালের রমজান মাসের জন্য জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররমস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক।
কেন এই হার নির্ধারণ?
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির বা যব—এই পাঁচটি পণ্যের যেকোনো একটির বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে ফিতরা নির্ধারণ করা হয়। আটার বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং উন্নত মানের পনির বা কিসমিসের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা চাইলে এর চেয়ে বেশি পরিমাণও প্রদান করতে পারেন।
ফিতরা কী ও কেন দেওয়া হয়?
ফিতরা বা সদাকাতুল ফিতর হলো একটি ওয়াজিব ইবাদত, যা পবিত্র রমজানের শেষে ঈদুল ফিতরের আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা খাদ্য হিসেবে গরিবদের প্রদান করতে হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো:
সমাজে যারা পিছিয়ে আছে বা অভাবী, তারা যেন ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে।
রমজানের সিয়াম সাধনায় যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়, তবে তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই দান কাজ করে।
ফিতরা কাদের ওপর আবশ্যক?
যেকোনো মুসলিম—যিনি নিসাব পরিমাণ (প্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত) সম্পদের মালিক, তার নিজের এবং পরিবারের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা বাধ্যতামূলক। পরিবারের প্রধান তার নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল অন্যদের ফিতরা প্রদান করবেন।
দাবিদার কারা?
ফিতরার হকদার মূলত সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে এই অর্থ প্রদান করা উত্তম, যাতে অভাবী মানুষরা ঈদের কেনাকাটা বা খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে।
businesstoday24.com এর সাথে থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।