Home Third Lead ২০২৬ বিশ্বকাপ কি জলবায়ুর জন্য এক মহাবিপর্যয়?

২০২৬ বিশ্বকাপ কি জলবায়ুর জন্য এক মহাবিপর্যয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। কিন্তু তা গৌরবের নয়, বরং পরিবেশ দূষণের দিক থেকে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ৯.০২ মিলিয়ন টন (৯০ লাখ টনের বেশি) কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) নির্গত হতে পারে।
১. কেন এই দূষণ এতো বেশি? (প্রধান কারণসমূহ)
টুর্নামেন্টের কলেবর বৃদ্ধি: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল এই বিশ্বকাপে অংশ নেবে। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বাড়িয়ে ১০৪টি করা হয়েছে। দল এবং ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর।
ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও আকাশপথের ব্যবহার: ২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে তিনটি বিশাল দেশে (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) মোট ১৬টি শহরে। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং লাখ লাখ সমর্থককে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে প্রচুর পরিমাণে অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণ করতে হবে। গবেষকদের মতে, মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮৬% (৭.৭২ মিলিয়ন টন) আসবে কেবল বিমান চলাচল থেকে।
বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ: জুন-জুলাই মাসের তীব্র তাপদাহে ১৬টি স্টেডিয়াম এবং ফ্যান জোনগুলোতে বিশাল মাত্রায় বিদ্যুৎ ও এসির ব্যবহার কার্বন ফুটপ্রিন্টকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
২. তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বিষয়
বিগত ৪ বিশ্বকাপের গড় (২০১০-২০২২)
২০২৬ বিশ্বকাপ (প্রাক্কলন)
মোট কার্বন নিঃসরণ
৪.৭ মিলিয়ন টন
৯.০২ মিলিয়ন টন
আকাশপথে দূষণ বৃদ্ধি
১৮% – ২০%
১৬০% – ৩২৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি
গাড়ির সাথে তুলনা
ইংল্যান্ডে ৬.৫ মিলিয়ন গাড়ি বছরে যে দূষণ করে তার সমান
৩. ফিফার বিতর্কিত ‘স্পনসরশিপ’ চুক্তি
গবেষকদের মতে, ফিফার নিজস্ব কার্যক্রমের চেয়েও বড় দূষণ ঘটাচ্ছে তাদের ব্যবসায়িক অংশীদাররা। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি আরামকো (Aramco)-এর সাথে ফিফার চুক্তিকে পরিবেশবাদীরা “জলবায়ু অন্ধত্ব” বলে অভিহিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই চুক্তির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরও ৩০ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণের দায় তৈরি হতে পারে।
৪. খেলোয়াড় ও দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি
কেবল দূষণ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ শিকার হতে পারে এই টুর্নামেন্ট নিজেই।
তীব্র তাপপ্রবাহ: ডালাস ও হিউস্টনের মতো শহরের স্টেডিয়ামগুলো ‘এক্সট্রিম হিট স্ট্রেস’ বা চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে।
নিরাপদ খেলা অসম্ভব: ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে অন্তত ৬টিতে তাপমাত্রা ফিফার নির্ধারিত ‘সেফ প্লে থ্রেশহোল্ড’ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা খেলোয়াড়দের জন্য জীবনঘাতী হতে পারে।
 ফিফা ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৫০% কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের বর্তমান পরিকল্পনা তার ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। পরিবেশবাদীদের মতে, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘কার্বন বিল’ তৈরি করতে যাচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কয়েকটি পরিবেশবাদী ও গবেষণা সংস্থা। এগুলোর অন্যতম হলো Scientists for Global Responsibility (SGR), এটি যুক্তরাজ্যের একটি বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের সংগঠন।

এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com